নিরাশায় আমেরিকা , আশাবাদী চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাণিজ্য দ্বন্দ্ব নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে নিরাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে বেইজিং দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য শান্তির পতাকা ওড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। খবর এএফপি।

ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনায় চীনা প্রতিনিধি দলের নেতা লিউ হের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানায়, শুক্রবারও দুপক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখে।

তবে ট্রাম্প এ আলোচনা নিয়ে নিরাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, সফলতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। চীন খুবই উচ্ছন্নে গেছে, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যা চেয়েছে সব সময়ই তার শতভাগ পেয়েছে।

চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য ট্রাম্প পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোর ওপর উষ্মা প্রকাশ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা চীন দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছি এবং এর আগে কেউ এমনটা দেখেনি যে, এক দেশের সম্পদ ফাঁকা করে অন্য দেশে নেয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তারা যে প্রচুর অর্থ নিয়েছে, তার ভিত্তিতে নিজেদের দেশ পুনর্গঠিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য পুরোপুরি একমুখী ছিল এবং আমি (চীনের) প্রেসিডেন্ট শিকে (জিনপিং) বলেছি, আমরা সেটি আর করতে পারব না।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ারের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডাম্পিং এবং অ্যান্টি-সাবসিডির অভিযোগে যে তদন্ত শুরু করেছিল, তা বাদ দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলে চীনের পশুসম্পদ শিল্প এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মার্কিন জোয়ারের ওপর শুল্কারোপ করা হলে কানসাস, টেক্সাস, কলোরাডো ও ওকলাহোমার মতো রাজ্যগুলোর কৃষকদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এসব রাজ্য রিপাবলিকান দলের সমর্থক সমৃদ্ধ এবং বিগত নির্বাচনে এ রাজ্যগুলোই ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী ভিত্তি।

এদিকে আলাদাভাবে চীনা প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাতে ব্লুমবার্গ নিউজে বলা হয়, চীনা প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি বৃদ্ধি ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে বার্ষিক ২০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প কেবল চীন নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যাপারেও রূঢ় ভাষা ব্যবহার করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভয়াবহ আচরণ করছে। তারা আমাদের শ্রমিকদের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর চড়া হারে শুল্কারোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

তবে দ্বন্দ্ব নিরসনে নেয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মতো চীনা প্রতিনিধি দলের বক্তব্যেও ছিল সমঝোতার আভাস। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া নিউজ সার্ভিসে প্রকাশিত হয়, ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর লিউ হে বলেন, দুটি দেশের মাঝামাঝি কোথাও পৌঁছানো, পরস্পরকে শ্রদ্ধা করা এবং স্বাস্থ্যকর ও সুস্থির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একত্রে কাজ করা উচিত।

সম্প্র্রতি পরস্পরের রফতানি পণ্যের ওপর বিশাল অংকের শুল্ক ধার্য করায় বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি দুটির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ হারে ১৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছে; অন্যদিকে চীন ৫ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করার কথা জানিয়েছে।

চীন আশা করছে, আলোচনার মাধ্যেমে দুপক্ষ বাণিজ্য দ্বন্দ্ব নিরসন করবে। তবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাও ফেং বলেন, আমরা অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত থাকব।

ট্রাম্পের নিরাশা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। চীনের প্রতি বিদ্বেষী মনোভাব দেখানো ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নাভারোকে চলমান আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে, যদিও দুই সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন।

সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেয়া অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিনের চীনকে সামলানোর বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করায় নাভারোকে আলোচনায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধভ্যাটে দুই স্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার
পরবর্তী নিবন্ধফাস্টফুডের নামে কি খাচ্ছি আমরা !!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে