আটরশির পীর: পরিচয়, ভ্রান্তবিশ্বাস ও খণ্ডন- শায়েখ হাসান জামিল হাফিজাহুল্লাহ

পরিচয়: ফরিদপুর শহরের নিকটস্থ আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। যার প্রতিষ্ঠাতা শাহসুফী হাশমত উল্লাহ। যিনি এনায়েতপুরের পীর শাহসুফী মুহাম্মদ ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর মুরিদ ও খলীফা। জনাব হাশমত উল্লাহ সাহেব জামালপুর শেরপুরের পাকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দশ বৎসর বয়সে তার পিতা শাহ আলীম উদ্দীন এনায়েতপুরী পীরের হাতে অর্পণ করেন। ত্রিশ বৎসর তিনি এনায়েতপুরীর কাছে থাকেন। অতপর এনায়েতপুরীর নির্দেশে ফরিদপুর এসে “জাকের ক্যাম্প” প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তিকালে এটারই নাম দেওয়া হয় “বিশ্ব জাকের মঞ্জিল”।

(বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা পদ্ধতি, শাহসুফী ফরিদপুরী, ও সংক্ষিপ্ত ওজিফা, মাহফুজুল হক, প্রকাশনায় বিশ্ব জাকের মঞ্জিল,২০ তম সংস্করণ) ভ্রান্তবিশ্বাস:

১. ভাল-মন্দ পীরের হহাতে; আটরশির পীর সাহেব বলেছেন, “এনায়েতপুরী (কু:) ছাহেব তিরোধানের পূর্বে আমাকে বলিয়া গিয়াছেন, “বাবা, তোর ভাল-মন্দ উভয়টাই আমার হাতে রইল। তোর কোন চিন্তা নেই।” -সাহসুফী হযরত ফরিদপুরী (মা: জি: আ:, খণ্ড ৩, পৃ:১১১) খণ্ডন: এটি একটি শিরকী আকীদা। কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে, قل كل من عند الله فما لهؤلاء القوم لايكادون يفقهون حديثا সূরা নিসা, আয়াত ৭৮। হাদীসে বলা হয়েছে, والخير والشر كله بيديك এ আয়াত ও হাদীস দ্বারা সুপ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সকলের ভাল-মন্দ আল্লাহর হাতে, কোন মানুষেরহাতে নয়।

২. পীর পরকালে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবে; আটরশির পীর সাহেব বলেন, “দুনিয়াতে থাকাবস্থায় তোমরা খোদা-প্রাপ্তির পথে যে যতটুকু অগ্রসর হও না কেন, তোমাদের ছায়ে-ছুলূক যদি জিবৎকালে সম্পন্ন নাও হয়, তবুও ভয় নাই। মৃত্যুর পরে কবরের মধ্যে দুই পূণ্যাত্মা (অর্থাৎ রাসূলে পাক সা. এবং আপন পীর) তোমাকে প্রশিক্ষণ দিবেন। মা’রেফাতের তালিম দিবেন; ফলে হাশরের মাঠে সকলেই আল্লাহর অলী হইয়া উঠিবেন। এই কারণেই বলা হয়-এই তালিকায় যিনি দাখিল হন, তিনি আর বঞ্চিত হন না।”– সাহসূফী হযরত ফরীদপূরী (মাঃজিঃআঃ) ছাহেবের নসীহত। খণ্ড ৪, পৃ.৯৩ খণ্ডন: পীর-মাশায়েখ মুরিদদের পাপের বোঝা বহন করে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন এমন বিশ্বাস খৃস্টানদের, যাদের বিশ্বাস হযরত ঈসা আ. শূলিতে চড়ে তাদোর সব অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। এটি একটি কুফুরী আকীদা। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন ولا تزر وازرةوزر أخرى অর্থাৎ কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না-সূরা আনআম ১৬৫।

৩. আটরশির পীর সাহেব বলেন, “হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খৃস্টানগণ নিজ নিজ ধর্মের আলোকেই সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে পারে এবং তাহলেই কেবল বিশ্বে শান্তি আসতে পারে। (আটরশির কাফেলা সংকলনে মাহফুজুল হক, আটরশির দরবার থেকে প্রকাশিত, পৃ: ৮৯, সংস্করণ ১৯৮৪) খণ্ডন: ان الدين عند الله الإسلام অর্থাৎ আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনিত ধর্ম হলো ইসলাম। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত, ১৯ অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخسرين অর্থাৎ, কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম সন্ধান করলে কস্মিনকালেও তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। এমন ব্যক্তি পরকালে চির হতভাগাদের দলে থাকবে। (সূরা আলেইমরান:৮৫)

৪. আটরশির পীর সাহেব বলেন, মুর্শিদে কামেল তদীয় মুরীদ পৃথিবীর যে স্থানেই থাকুক না কেন সেই স্থানেই তাহাকে কুওতে এলাহিয়ার হেফাজতে রাখিতে পারেন।…….. (সাহসুফী হযরত ফরিদপুরী (মাঃ জিঃ আঃ) ছাহেবের নসীহত, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৬)

খণ্ডন: কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন وان يمسسك الله بضر فلا كاشف له إلا هو অর্থাৎ, যদি আল্লাহ তোমার কোন অকল্যাণ ঘটান তাহলে তা হটানোর কেউ নেই। ( সূরা ইউনুস, আয়াত ১০৭)

শিরক বিদআতে ভরপুর যাদের কার্যক্রম, কুফরি-শিরকে পূর্ণ যাদের বক্তব্য-লিখনি, তারা কী করে মুসলমান থাকে? এদের জাল থেকে আল্লাহ উম্মতে মুসলিমাহকে হেফাজত করুন। তথসূত্র: ইসলামী আকায়েদ ও ভ্রান্ত মতবাদ – মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন

–লেখকঃ শায়েখ হাসান জামিল হাফি., মোহতামিম – দারুল উলূম রাহমানিয়া মাদরাসা

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধকোটা আন্দোলনকারীদের হেনস্থা করছে ঢাবি প্রশাসন: ছাত্র ইউনিয়ন
পরবর্তী নিবন্ধ২৭ মে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি: কওমী ছাত্র শিক্ষক পরিষদের

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে