ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বৈধভাবে পড়ার সুযোগ প্রদানের দাবীতে আজ ২১ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আধিকার আদায়ের সংগঠন ‘কওমী ছাত্র শিক্ষক পরিষদ’ এর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে আগামী ২৭ মে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করার কর্মসূচি দেয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটি ভারতীয় হাইকমিশনকে স্মারকলিপি প্রদান করবে।

সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরিষদের মুখপাত্র মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, যুগ্ম সমন্বয়ক গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা শেখ লুকমান হোসাইন, যুগ্ম সমন্বয়ক মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আরমান, মুফতী ফখরুল ইসলাম, মাওলানা গোলাম মাওলা, মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা এহসানুল হক ও মাওলানা তোফায়েল গাজালী প্রমুখ।।
এতে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মানুমুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন সে ধারাবাহিকতায় কওমী ছাত্র শিক্ষকদের প্রাণের দাবিকে মেনে নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ার সুযোগ তৈরির করে দেবেন বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শিক্ষা হলো সারা পৃথিবীর একমাত্র পাওয়ার। শিক্ষা ছাড়া মানুষ নিজেকে বিকশিত করতে পারে না। কিন্তু কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা রাষ্ট্রীয় সীমানা প্রাচীরে আটকে আছে। সীমান্তের এ অনৈতিক বাধা উঠিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী যে কোনো রাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বাংলাদেশ অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্দেশে বলেন, পৃথিবীর সব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশগুলো অহঙ্কার করে থাকে। আল আযহার যেমন মিশরের গৌরব, অক্সফোর্ড যুক্তরাজ্যের গৌরব, তেমনি দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতের গৌরব। ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের নানা বিপদে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে এই দেওবন্দ মাদরাসা। কিন্তু ভারত দারুল উলুমের মতো গৌরবের বিষয়কে মূল্যায়ন করতে পারছে না।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের প্রাণের দাবি দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যেন সহযোগিতামূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে যারা ভারতে পড়তে যাচ্ছেন তারা যেন কোনো ধরনের হেনস্থার শিকার না হয় সে বিষয়ে দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে আগামী ২৭ মে রোববার প্রেসক্লাব থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করার কর্মসূচি দেয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটি ভারতীয় হাইকমিশনকে স্মারকলিপি প্রদান করবে।
কওমি ছাত্র শিক্ষক পরিষদের মুখপাত্র মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত থাকে। এমনকি শিক্ষার জন্য সরকার ভর্তুকিও দিয়ে থাকে, নানাভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার খুব একটা সুযোগ সুবিধা পায় না। কওমি শিক্ষার্থীরা নানা দেশে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে, দেশের পতাকাকে উঁচু করেছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কুরআন প্রতিযোগিতা কওমী শিক্ষার্থীরা অনেক সম্মান বয়ে এনেছে।
তিনি আরও বলেন, কওমী মাদরাসায় যারা পড়ে তারা অনৈতিকতায় জড়ায় না, তারা মাদক, দুর্নীতি অশ্লীলতাসহ কোনো অন্যায় কাজে জড়িত হয়না। এই জনগোষ্ঠীকে সরকার ইচ্ছে করলে নানা জায়গা কাজে লাগাতে পারে। তাই আমি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলবো, কওমী পড়ুয়া বিশাল এ মেধাবী ও সৎ শ্রেণিকে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিন।




















