দুটি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড’ ও ‘পিপলস ব্যাংক লিমিটেড’ নামে দুটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার কাজ গুছিয়ে এনেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী জুনের মধ্যেই অনুমোদন পাবে ব্যাংক দুটি। জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন ব্যাংক দুটির উদ্যোক্তারাও। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বেঙ্গল ব্যাংক ও পিপলস ব্যাংক ছাড়াও পুলিশের উদ্যোগে ‘পুলিশ ব্যাংক লিমিটেড’ নামে আরো একটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে তফসিলভুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৬০ ছাড়াবে।
সূত্র মতে, নতুন ব্যাংকের জন্য ২০১১ সালে আবেদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় জমা পড়ে ৩৭টি আবেদন। সরকারের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে ওই দফায় নয়টি ব্যাংককে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আর কোনো ব্যাংকের অনুমোদন না দেয়ার পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকলেও ২০১৬ সালে অনুমোদন পায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগে সীমান্ত ব্যাংক। এরপর আরো কয়েকটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সুপারিশ পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিটি সুপারিশের উত্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে আপত্তির কথা জানায়। যদিও সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বেঙ্গল এবং পিপলস ব্যাংককে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বেঙ্গল ব্যাংকের জন্য আবেদন করেছেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। যদিও শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামেই অনুমোদনের আবেদন করেছিল গ্রুপটি। সম্প্রতি ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা বাংলা ব্যাংকের পরিবর্তে বেঙ্গল ব্যাংক নামেই অনুমোদন চেয়েছে। অনুমোদন পেলে এটি হবে মূলত বেঙ্গল গ্রুপেরই একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রুপটির অধীনে বর্তমানে বিভিন্ন খাতের প্রায় ২০টি শিল্প ও সেবাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন নোয়াখালী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক মোরশেদ আলম এর আগে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানও ছিলেন। তিনি ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া ইউনাইটেড হসপিটাল ও পিপলস ইউনিভার্সিটির পরিচালকও তিনি।
ব্যাংকটির অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে আমরা ব্যাংক অনুমোদন পাওয়ার প্রত্যাশায় আছি। আশা করছি, দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের আবেদনকৃত ব্যাংকের লাইসেন্স দেবে। তবে আমি এখনো জানি না, অনুমোদন প্রক্রিয়াটি কোন পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলা ব্যাংকের পরিবর্তে আমরা বেঙ্গল ব্যাংক নামে অনুমোদন চেয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংকও এক্ষেত্রে সম্মতি দিয়েছে। ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করার জন্য আমাদের দিক থেকে সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের জন্য আবেদন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনিও। এ প্রসঙ্গে এমএ কাশেম বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ব্যাংক করতে দেশে এসেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই পিপলস ব্যাংকের অনুমোদন দেবে— এ প্রত্যাশায় আছি।
ব্যাংকের নাম থেকে ইসলামী শব্দটি বাদ দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিপলস ব্যাংকের কার্যক্রম শরিয়াহ্ অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। পূর্ণাঙ্গ ধারার ইসলামী ব্যাংক হবে এটি। তবে কৌশলগত কারণেই নাম থেকে ইসলামী শব্দটি বাদ দিতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শেই এটি করেছি।
এ দুটি ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ব্যাংকগুলোর আবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সহসাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।




















