ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলের ব্যবহার করা বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার সহ সাতটি গাড়ি খোলা নিলামে ২ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।মোহাম্মদ রাসেলের ব্যবহার করা বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়িটি নিয়েছেন প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও চারটি গাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আবদুর রহমান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান এর নের্ত্রিতে রাজধানীর ধানমন্ডির সোবহানবাগে ইভ্যালির কার্যালয়ের পাশের ভিক্টোরিয়া কনভেনশন সেন্টারে নিলামে ওই সাতটি গাড়ি বিক্রি করা হয় আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ।
ইভ্যালি পরিচালনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি ইভ্যালির আরও চারটি গাড়ির সন্ধান পেয়েছে । কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জানান, ইভ্যালির আরও যে চারটি গাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল তাঁদের (যাঁদের কাছে আছে) দিয়েছেন। তাঁদের নাম-ঠিকানাও পাওয়া গেছে। গাড়ি আটকে রাখা আইনের দৃষ্টিতে চুরি। আগামী রোববারের মধ্যে তাঁরা গাড়ি ফেরত না দিলে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারও করা হবে। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাদের উদ্দেশ্য পুঁজি বাড়ানো; যাতে পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেওয়া যায়। সে জন্য ইভ্যালির আরও পণ্য নিলামে তোলা হবে।’
আজ নিলামে ছয়টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ব্যক্তিগত গাড়ি রেঞ্জ রোভার ১ কোটি সাড়ে ৮১ লাখে, রিপন ইসলাম টয়োটা প্রিয়াস ১৭ লাখ ৩০ হাজারে, প্রশান্ত ভৌমিক টয়োটা চিএইচআর হাইব্রিড ২৩ লাখ ৮০ হাজারে, আবুল হাসনাত রাসেল টয়োটা এক্সিও ১৫ লাখ ৩৫ হাজারে, প্রশান্ত ভৌমিক হোন্ডা ভেসেল ১৫ লাখে, আইনজীবী কানিজ ফাতেমা হোন্ডা ভেসেল ১৭ লাখ ৬০ হাজারে ও মো. রিয়াজ উদ্দিন টয়োটা ব্র্যান্ডের মাইক্রোবাস ২০ লাখ টাকায় কেনেন। গাড়িগুলো ইভ্যালির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন।
২৭ লাখ টাকায় ইভ্যালি নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কো-চার্টার্ড অ্যাকাউন্টসকে। নিরীক্ষা শেষ হতে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তখন ইভ্যালির সম্পত্তি ও দেনার তথ্য পাওয়া যাবে। তারপর হিসাব করে পাওনাদারদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
নিলামে অতিরিক্ত সচিব ও কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব কবীরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।




















