স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও সফরকারী বাংলাদেশের মধ্যকার পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৫৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে। বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে ৩১৪ রানে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাড়ে চারশ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ম্যারাথন সেঞ্চুরি হাঁকানো মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন শূন্য রানে। ডোয়াইন অলিভিয়েরের আউটসুইঙ্গারে পরাস্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন জয়।
দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। এক বছর পর সাদা পোশাকে ব্যাটিংয়ে নেমেও দারুণ সাবলীল ছিলেন তামিম। ওয়ানডে স্টাইলে রান তুলছিলেন এই ওপেনার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন শান্তও। এই দুই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তোলেন ৭৯ রান।
তবে এরপরই যেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। পরবর্তী চার উইকেট হারায় মাত্র ৪০ রানে। তামিমের বিদায়ে যার শুরু। দারুণ খেলতে থাকা তামিম উইয়ান মুল্ডারের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন। তবে আউট হওয়ার আগে ৫৭ বলে ৮ চারে ৪৭ রান করেন তামিম।
তামিম ফেরার দুই ওভার পরে ফেরেন শান্তও। একইভাবে আউট হন তিনে নামা এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে ৭৪ বলে করেন ৩৩ রান। টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন।
মাত্র ৬ রান করে মুল্ডারের শিকার হন। প্রোটিয়া এই পেসার আগের দুই উইকেটের মতো মুমিনুলকেও একই ফাঁদে ফেলেন। ৫ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট শিকার করে ফেলেন মুল্ডার। মুমিনুলের বিদায়ের পর ছয়ে নামা লিটন শুরুতেই দুটো বাউন্ডারি হাঁকান।
দারুণ সূচনার আভাস দিয়েও ব্যক্তিগত ১১ রানে অলিভিয়ের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন লিটন। অপরপ্রান্তে অবশ্য অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম মাঠ আঁকড়ে পড়ে থাকেন। দিন শেষ করার আগে ৩০ রানে অপরাজিত আছেন মুশি। তার সঙ্গে তৃতীয় দিন সকালে ব্যাট করতে নামবেন ৮ রানে অপরাজিত থাকা ইয়াসির আলী।
আগের ম্যাচের নায়ক কেশব মহারাজ এই ম্যাচে ব্যাটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৮ নম্বরে নেমে খেলেন ৮৪ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ৯৫ বলে গড়া এই ইনিংস থামে তাইজুল ইসলাম ইনিংসে তার ৫ম উইকেট শিকার করলে। সব মিলিয়ে তাইজুল শিকার করেন ৬ উইকেট। এছাড়া খালেদ আহমেদ তিনটি মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট শিকার করেন।
ম্যাচের প্রথম দিন ৩ উইকেট নেওয়া তাইজুল এদিন নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। সাকিবের পর দ্বিতীয় টাইগার বোলার হিসেবে প্রোটিয়ায় পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তাইজুল। এটি তাইজুলের ক্যারিয়ারের দশম পাঁচ উইকেট শিকার। তাইজুল ছাড়া খালেদ আহমেদ ৩টি ও মেহেদী মিরাজ নেন ১টি উইকেট।



















