বাঁধ ভেঙ্গে গুরমার হাওরে ঢুকছে পানি, কাঁদছেন কৃষকরা

0

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওরের বর্ধিতাংশের বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের হাজারও কৃষকের স্বপ্ন চোখের পলকে ভেসে গেছে।

১৫ দিন ধরে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছিলেন স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা। তবে রোববার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের পাশের অংশে বাঁধটি ভেঙে যায়।

রোববার সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। গুরমার হাওরের ২৭নং প্রকল্পটি ভেঙ্গে পানি ঢুকতে শুরু করে হাওরে।

গুরমা হাওর অংশের খাউজ্যাউরি, নোয়াল, আইন্যা, কলমা ও গলগলিয়া ও ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের ফসলি জমিও ডুবে যাচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, পাটলাই নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় অবস্থা এখন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ারসংলগ্ন বাঁধে মাটি ও বাঁশের চাটাই দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, অনেক কষ্ট করে ফসল করেছিলাম। সব ফসল বানের পানিতে তলিয়ে গেলো। এখন আবার গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করতে হবে। বাঁধে যদি দুর্নীতি না হতো তাহলে আজ আমাদের ফসল তলিয়ে যেত না।

আরেক কৃষক রউফ মিয়া বলেন, অনেক কষ্ট করে ঋণের টাকা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১৫ দিন বাঁধ রক্ষায় কাজ করেছি। কিন্তু আজ বাঁধটি রক্ষা করতে পারলাম না। সব স্বপ্ন ডুবে গেলো।

রোববারও বাঁধ রক্ষার লড়াইয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, বাঁধটি রক্ষায় ১৫ দিন ধরে পালাক্রমে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সবাই দেখভাল করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠেকানো গেলো না। অন্য বাঁধগুলো রক্ষার চেষ্টা করছি।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধলঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১৮ এপ্রিল
পরবর্তী নিবন্ধযানজট আর ভোগান্তির নাম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে