স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠেই থানা হবে। তিনি বলেন, এটি কখনও মাঠ ছিল না। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছিল। আপাতত থানার জন্য এটাই (তেঁতুলতলা মাঠ) নির্দিষ্ট জায়গা। যথাযথ প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ হওয়ায় ওই জায়গাটি এখন পুলিশেরই। বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীরা দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় আধঘণ্টার বৈঠকে, অন্য কোন জায়গায় কলাবাগান থানা করার দাবি জানান তারা। বিবেচনার আশ্বাস দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ‘তেঁতুলতলায় কখনোই খেলার মাঠ ছিলো না। এটা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছিল।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেটাকে তেঁতুলতলা মাঠ বলছেন, সেটা কখনই মাঠ ছিল না। এটা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছিল। ঢাকা শহরে যে নতুন নতুন থানা ভবন হচ্ছে, বেশিরভাগই ভাড়া বাড়িতে। এ কারণে পুলিশ ফোর্সকে নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সেজন্য এগুলোকে স্থায়ী জায়গায় নেয়ার জন্য নিয়ম অনুযায়ী ডিসির (জেলা প্রশাসক) কাছে ঢাকা শহরের কোন জায়গায় জমি অধিগ্রহণের জন্য বলেছিলাম। কলাবাগানের কোন জায়গায় দেয়া যায় কি না, সেটাও বলেছিলাম। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে ওই জায়গাটি বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই জায়গাটির যে মূল্য, তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জমা দেয়ার পর ডিসি জায়গাটি হস্তান্তর করে দিয়ে যান। এটা ছিল মূল কথা।
“ঢাকার কলাবাগানের কোনো জায়গায় দেয়া যায় কিনা বলেছিলাম। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে এই জায়গাটি বরাদ্দ দেন। সেই জায়গাটির যে মূল্য তা ঢাকা মহানগর পুলিশ জমা দেয়ার পর ডিসি জায়গাটি হস্তান্তর করে দিয়ে যান। এটা ছিল মূলকথা।”
এদিকে মন্ত্রীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে খুশি কবির মানবাধিকারকর্মী সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রীকে বলেছি নির্মাণকাজ বন্ধ করতে। তিনি পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি বলবেন বলে জানিয়েছেন।”
মন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন কি না- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে খুশি কবিরকে দ্বিধাগ্রস্ত দেখায়। তখন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কিছুটা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নিজেও খেলার মাঠটার ব্যাপারে অনুভব করছেন। কিন্তু তারা ২৭ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন। আমরা বলেছি, সেটা তো সরকারি কোষাগারেই আছে। সেখানে (কলাবাগানে) আরও অনেক পরিত্যক্ত জায়গা আছে।’
এসময় থানার জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এদিকে প্রতিবাদের মুখেও থেমে নেই কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানার নির্মাণকাজ।
তবে ঐ এলাকার শিশু-কিশোর ও স্থানীয়দের কাছে এটি খেলার মাঠ হিসেবেই পরিচিত। এখানে থানা নির্মাণের উদ্যোগ মেনে নিতে পারছে না তারা।
অন্যদিকে উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে এখনও চলছে আন্দোলন। বুধবারও পালন করা হয় প্রতিবাদী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। থানা নির্মাণ বন্ধ না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ার দিয়েছে পরিবেশবাদীরা।




















