পনেরো দিনের ব্যবধানে কমপক্ষে আট টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। আর, পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মিল পর্যায়ে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে দুইশ’ টাকা।
মিল মালিকদের অজুহাত এবার অতিবৃষ্টি। তারা দাবি করছেন, অতিবৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় শুকনা ধানের সংকট দেখা দিয়েছে।
যদিও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, মিল মালিক, ধান ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করায় বাজার অস্থির হয়েছে।
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় এপ্রিলের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় ধান। একই সময় অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলেও ধান নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় হাটগুলোতে তৈরি হয়েছে শুকনা ধানের সঙ্কট। এ অবস্থায় আটাশ জাতের ধানের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১,২০০ টাকা মন। আর মিনিকেট ১,৪০০ টাকার ঘর।
এর সুযোগ নিয়ে ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়াতে থাকেন মিলাররা। রাজধানীর পাইকারী ও খুচরা বাজারে পনেরো দিনের ব্যবধানে সব রকম চাল কেজিতে সাত থেকে আট টাকা বেড়েছে।
মিল মালিকদের দাবি, শুকনা ধানের সংকটে গ্রাম-গঞ্জের হাটগুলোতে ধানের বাজার অস্থির হবার কারণেই চালের দাম বাড়ছে।
তবে এসব দাবি উড়িয়ে দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, বিভিন্ন কর্পোরেট হাউস ধান–চালের ব্যবসা শুরু করেছে। তারা বাজার থেকে ধান কিনে মজুত করছেন এবং প্যাকেটজাত করছেন।
প্যাকেটজাত চাল বেশি দামে বাজারে বিক্রিও হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চাল বিক্রির বৈধতা খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, মিলমালিকরা কে কী পরিমাণ ধান কিনছেন এবং কে কী পরিমাণ চাল ক্রাশ করছেন বা ভাঙছেন এবং বাজারে ছাড়ছেন, তা জানাতে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কে কোন দল করে সেটি বিবেচ্য নয়। কেউ চালের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, মূল্যস্ফীতির এই সময়ে চালের বাজারে কারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নামবে খাদ্য মন্ত্রণালয়।




















