বাস ডাকাতি ও গণধর্ষণ: আদালতে আরও ২ আসামির জবানবন্দি

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আরও দুই আসামি বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিম বিকালে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

তারা হচ্ছেন- বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১) এবং মো. সোহাগ (১৯)। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাবু হোসেন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার গোইলবাড়ি গ্রামের জামিল হোসেনের ছেলে। মো. সোহাগ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শামছুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরে থাকতেন। গত রোববার রাতে এই দুইজনসহ ১০ জনকে র্যা ব গ্রেফতার করে। সোমবার তাদের টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা দুইজনসহ ছয়জনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনেই এই দুইজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে আদালতে নেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয়েই আদালতে জবানবন্দিতেও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছেন।

এর আগে র্যা বের কাছে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসলাম তালুকদার (১৯), রাসেল তালুকদার (২৫), নাইম সরকার (১৯) ও আলাউদ্দিন (২৪) মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গত শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রাজা মিয়া, মো. আওয়াল ও নুরনবী। এ নিয়ে এই মামলার ৯ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করলেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল পরিবহণের একটি বাসটি সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে যাত্রীবেশী ডাকাতরা গাড়িতে উঠেন। টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর তারা অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে যাত্রীদের টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন, গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেন। এ সময় বাসের এক নারী যাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। পরে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত আলী বাদী হয়ে বুধবার মধুপুর থানায় ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাত দলের সদস্য বাসচালক রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে মো. আওয়াল ও নুরনবীকে গ্রেফতার করে।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধ১০ বছরের প্রেম, তিনদিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন!
পরবর্তী নিবন্ধসেই ব্রিজ আর ব্যবহারযোগ্য নেই: ইউক্রেন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে