বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে সাবেক এমপির চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির অভিযোগ

কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের অনিয়মের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় তার অনুসারীরা চিংড়ি ঘেরে ডাকাতি করেছে বলে অভিযোগ করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াছ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন ও বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের নাম উল্যেখ করে মামলার এজাহার জমা দিলে চকরিয়া থানার ওসি এজাহার ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এ সংসদ সদস্য। 

মো. ইলিয়াছ বলেন, গত ১০ আগস্ট চকরিয়া কোর্ট সেন্টারে জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ সভায় বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের অনিয়মের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি।পরদিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে বর্তমান সংসদ সদস্যের পালিত ১০-১৫ জন মুখোশ পরিহিত ডাকাত মৎস্য প্রকল্পে থাকা মো. ফারজিন ও হুমায়ুন কবিরের হাত পা বেধে রাখে। সেখানে থাকা আনুমানিক ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ও মাছ ধরার সরঞ্জামাদি নিজ হেফাজতে নেয় ডাকাতরা। এক পর্যায়ে ফারজিন ও হুমায়ুন চিৎকার-চেচামেচি করে আশে পাশের লোকজন ডাকলে ডাকাত দলের হাতে থাকা অবৈধ বন্দুক দিয়ে ফাকা গুলি করতে থাকে। তাদের সঙ্গে থাকা ইঞ্জিন বোটে ডাকাতির মাছ ও মাছ ধরার সরঞ্জামাদি নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যের ও আমার মৎস্য প্রকল্প পাশাপাশি। মাঝখানে শুধু একটি সীমানা প্রাচীর। ঘটনাটা যদি বর্তমান সংসদের সন্ত্রাসীরা না করে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই দুইটি ঘেরেই ডাকাতি হতো। আসল ঘটনাটা হচ্ছে সরকার দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে চিংড়িঘের দখল, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করি আমি। তার স্বজনরা চকরিয়ার মৎস্য প্রকল্পে বিভিন্নভাবে ৫০ হাজার চিংড়িঘের দখল করেছে বলেও বক্তব্য প্রদান করি। এসময় তার অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জবরদখল বন্ধ না হলে তার বাড়ি ও অফিস ঘেরাও করা হবে বলেও বক্তব্য প্রদান করি। তার সূত্র ধরেই বর্তমান সংসদ তার পালিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ডাকাতি করিয়েছেন। 

মো. ইলিয়াছ আরো বলেন, এ ঘটনায়  চকরিয়া থানায় ১০-১৫ অজ্ঞাতনামা এবং বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের কথা উল্যেখ করে এজাহার জমা দিই। তবে এজাহারে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের বর্তমান সংসদের নাম থাকায় তার নাম বাদ দিয়ে মামলার এজাহার জমা দিতে বলেন চকরিয়া থানার ওসি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কক্সবাজার চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তির বলেন, সাবেক এমপি মহোদয়ের চিংড়ি ঘেরে ডাকাতি হয়েছে উল্লেখ তিনি একটা এজাহার দিয়েছেন। যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এজহাজার থেকে এমপি জাফর আলমের নাম সংশোধন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এজহজারে এমপির নামও ছিলোনা। আপনাদের কাছে যেটা দিয়েছে হয়তো সেটা অন্য এজহার হতে পারে।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধবৈশ্বিক সংকট নিয়েও রাজনীতি কেন!
পরবর্তী নিবন্ধপিকআপের সাউন্ডবক্সে ২২ কেজি গাঁজা!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে