সন্তান বিক্রির অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

রাজবাড়ীর পাংশায় বাবা আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে নেশার টাকা ও বেশি অর্থের বিনিময়ে ৩ বছরের শিশু সুমাইয়াকে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার শিশুটির মা মোছা. শুকজান খাতুন বাদী হয়ে রাজবাড়ীর মানবপাচার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

বিষয়টি বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন- জেলা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট রেশমা নাহার মাহমুদা।

অভিযুক্ত আব্দুল কাদের খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাগলবা গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

আদালতে মামলা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের কোনো কাজকর্ম করতেন না। তিনি দীর্ঘদিন নেশাগ্রস্ত  ছিলেন। সাংসারিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ওমানে যান আব্দুল কাদেরের স্ত্রী মোছা শুকজান খাতুন। ওমান যাওয়ার সময় তার বড় মেয়ে ফাতেমা (১৮) ছেলে মোবাহান (১৪) ও সুমাইয়াকে (৩) নানি রহিমার কাছে রেখে যান।

বিদেশ যাওয়ার দুই-তিন মাস পর কাদের তার শাশুড়ির কাছ থেকে সুমাইয়াকে নিয়ে যান। তিন-চার মাস পর আব্দুল কাদের শুকজানকে বলেন মেয়ে সুমাইয়া হারিয়ে গেছে। দুই বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আসলে মেয়ে সুমাইয়ার সন্ধান পান শুকজান। তখন তিনি জানতে পারেন তার স্বামী নেশার টাকা জোগান দিতে এবং বেশি অর্থের লোভে নারী পাচারকারীদের কাছে বিক্রির জন্য কুমারখালী উপজেলার মমিন মণ্ডলের কাছে তার মেয়ে সুমাইয়াকে রেখেছেন। 

এ ঘটনায় গত বুধবার শুকজান খাতুন বাদী হয়ে উপজেলার ১ নম্বর কয়া ইউনিয়নের গট্টিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ মণ্ডলের ছেলে আব্দুল মমিন মণ্ডলকে প্রধান আসামিসহ স্বামী আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী শুকজান খাতুন বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেও মেয়েকে ফিরে আনতে পারছি না। আমি আমার মেয়ে সুমাইয়াকে মমিন মণ্ডলের বাড়িতে আনতে গেলে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন তার স্বামী আব্দুল কাদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরকে তার মোবাইল ফোনে বলেন, আমার স্ত্রী যেসব অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অভাব-অনটনের সংসার। আমার স্ত্রী এ সংসারে থাকবেন না বলে ৩-৪ বছর আগে তিন সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে চলে যান। আমার ছোট মেয়ে সুমাইয়ার বয়স তখন ৩ বছর। তখন আমি আমার মেয়ে সুমাইয়াকে লালনপালন না করতে পারায় এতিমখানায় দিয়ে দেব বলে সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু সেই সময় আমার প্রতিবেশী মর্জিনা বেগমের ভাই মমিন মণ্ডল আমার মেয়েকে লালনপালন করার দায়িত্ব নিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। পরে নিজের মেয়ে হিসেবে লালনপালন করার জন্য বুঝে নেন। 

অপর অভিযুক্ত মমিন মণ্ডল বলেন, আমার তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়ে সন্তান না থাকায় সুমাইয়াকে নিজের মেয়ে হিসেবে লালনপালন করার জন্য এনেছি। এখন পর্যন্ত সুমাইয়া আমার মেয়ে হিসেবেই বাড়িতে রয়েছে। তবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করলেও তাদের এখনো বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি বলে জানান তিনি। 

মামলার বাদীপক্ষের জেলা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট রেশমা নাহার মাহমুদা বলেন, মামলাটি এজাহার রূপে গণ্য করার জন্য পাংশা মডেল থানাকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধকলেজিয়েট স্কুলের ৬ শিক্ষার্থী তিন মাস বহিষ্কার
পরবর্তী নিবন্ধফ্রান্স বিএনপির মতবিনিময় সভা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে