ভুল গ্রুপের রক্ত পুশ করার পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে গাজীপুরের কালীগঞ্জে জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১–এর একটি দল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বন্যা আক্তার (৩১), ওটি বয় আশিকুর রহমান (২৫), হাসপাতালটির নার্স সংগিতা তেরেজা কস্তা (৩৩), মেরী গমেজ (৪০), সীমা আক্তার (৩৪) ও শামীমা আক্তার (৩২)। তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বলেন, জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছিল হাসপাতালটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বিভিন্ন চিকিৎসককে ডেকে এনে চিকিৎসা করাত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘গত রোববার সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার তুমুলিয়া ইউনিয়নের আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী শিরিন বেগমের (৩২) প্রসবব্যথা উঠলে তাঁকে পরিচিত বন্যা আক্তারের মাধ্যমে জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা ও আলট্রাসনোগ্রাম করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজার) বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসক মো. মাসুদ গাইনোকলজিস্ট না হয়েও ওই রোগীর অস্ত্রোপচার করেন।’
অস্ত্রোপচারের সময় প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় রোগীর পরিবারকে এবি পজিটিভ রক্ত সংগ্রহের কথা বলা হয়। স্বজনেরা এই গ্রুপের রক্তের ব্যবস্থাও করেন। কিন্তু কর্তব্যরত নার্সরা শিরিন আক্তারের শরীরে বি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত পুশ করেন। ভুল গ্রুপের রক্ত পুশ করায় রোগীর খিঁচুনি উঠলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে ওটি বয় আশিকের তত্ত্বাবধানে রোগীর চিকিৎসা চলতে থাকে। একপর্যায়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যার দিকে আশিক ও বন্যা তড়িঘড়ি করে রোগীকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থায় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, রোগী মারা গেছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের নির্দেশনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি চিকিৎসক সানজিদা পারভীনকে। র্যাব থেকে বলা হয়েছে, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হবে।




















