সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি, পাবনার বেড়া উপজেলার শালিখা ও নগরবাড়ি নৌ-বন্দরে ট্রাক মালিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি সোমবার দুপুরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিন দুপুর থেকেই বিআইডব্লিউটিএর ৩টি নৌবন্দরে আবারো পণ্য আনলোড ও পরিবহণ কাজ শুরু হয়েছে। ফলে বন্দরগুলোতে আবার প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রান্সপোর্টের দালালদের নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে রোববার ভোর থেকে ট্রাক মালিকদের অনির্দিষ্ট কর্মবিরতির ফলে এই ৩ বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রাসায়নিক সার ও সিমেন্ট পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে এই ৩ নৌ-বন্দরে নোঙ্গরকৃত জাহাজ থেকে পণ্য আনলোড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ কাজের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে অবস্থিত সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহণ খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হয়নি। ট্রাক বন্দোবস্তকারীরা (ট্রান্সপোর্ট দালাল) পণ্যের মালিকদের কাছ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও তা ট্রাক মালিকদের দেয় না। এতে শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি, পাবনার বেড়া উপজেলার শালিখা ও নগরবাড়ি নৌ-বন্দরের সব ট্রাক মালিক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পরে। ফলে তারা ভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রান্সপোর্ট দালালদের নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে এ কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু করে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের সঙ্গে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরের লেবার এজেন্ট অফিসে ট্রাক মালিকদের এ সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রশাসন তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তারা আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ট্রাক মালিকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়ে কাজে যোগদান করেছেন। বন্দরটিতে আবারো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।




















