সাত ট্রাক সার ভেজাল প্রমাণিত, ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে বগুড়া বাফার গুদামে পাঠানো সাত ট্রাক সার ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাজাহারুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে বগুড়া সদর থানায় এ মামলা করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির সদস্যরা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএইচআর করপোরেশনের কর্মচারী তথা ট্রাকের চালক ও হেলপারকে বাফার গুদাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। সদর থানার ওসি সেলিম রেজা এ তথ্য দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন- সার পরিবহণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোয়াজ্জেম হোসেন, সারসহ জব্দ করা সাত ট্রাকের চালক ও হেলপার ঢাকার সাভারের বলিয়ারপুরের হাসেন আলীর ছেলে নূর হোসেন (২৬), একই গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে আবদুল আউয়াল (৫০), আবদুল হাইয়ের ছেলে আবুল বাশার (২৮), মো. আনিসের ছেলে মো. জসিম (২৬), মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩৫), মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. আসাদুল (২৬) ও মো. মুন্নাফের ছেলে মো. বাবু (২৫), ঢাকার সাভারের নগরকোন্ডা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে মো. তারেক (১৯), একই গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে মো. শাকিল (৩২), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. হানিফ (৩২) ও কান্দর আলীর ছেলে মো. শাকিল (৩১), রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবতী গ্রামের আনসার আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (১৮) এবং মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের মানিকগঞ্জ গ্রামের আরশাদ শেখের ছেলে শাহ্ আলম (৪৩)।

শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার তৌহিদুল মবিন খান নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য আসে গত ২৭ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড সার কারখানা থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমএইচআর এন্টারপ্রাইজের ১২ ট্রাকে টিএসপি সার নিয়ে বগুড়া সদরের তিনমাথা এলাকায় বিসিআইসির বাফার গুদামের উদ্দেশে রওনা হয়। চালক ও হেলপাররা পথে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে যাত্রা বিরতি করেন। তারা সেখানে সাত ট্রাক থেকে আসল টিএসপি সার নামিয়ে নকল সার উত্তোলন করেন। 

তিনি জানান, ২৯ আগস্ট সকালে টিএসপি সারবোঝাই সাতটি ট্রাক বগুড়া বাফার গুদামে পৌঁছে। প্রতিটি ট্রাকে ২৮০ বস্তা সার রয়েছে। এসব ট্রাকে ভেজাল সার আছে- এমন তথ্য পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনকে পরীক্ষা ছাড়া খালাস না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। সারগুলো যেন কৃষকদের হাতে না পৌঁছে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। এরপর ট্রাকের সঙ্গে থাকা চালক ও হেলপারদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ওই দিন সাত ট্রাক থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম রিপোর্ট দেন যে সারগুলো ভেজাল। 

র‌্যাব কমান্ডার আরও জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে বিসিআইসির বাফার গুদাম থেকে ট্রাকের উল্লিখিত ১৩ চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সারের বস্তা পরিবর্তনের কথা অস্বীকার করেন।

র‌্যাব-১২ কর্মকর্তা তৌহিদুল মবিন খান আরও জানান, পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে ১২ ট্রাক সার আসার কথা থাকলেও এসেছে ১৭ ট্রাক। তবে অতিরিক্ত পাঁচ ট্রাক কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সাতটি ট্রাক ভেজাল সার পাওয়া গেছে। বাকি ১০ ট্রাক গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কৃষকদের দেওয়া হবে না। ইতোপূর্বে টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা বগুড়া এসেছেন, তারা এ ব্যাপারে মামলা করবেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাজাহারুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মোয়াজ্জেম হোসেন পলাতক রয়েছে। র‌্যাব ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তাদের থানায় সোপর্দ বা জব্দ করা সার বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধসেক্রেটারি গ্রেফতার ফরিদপুর জেলা জাসাসের
পরবর্তী নিবন্ধরান্নাঘরের মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো ২৬৪টি সোনার মোহর!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে