মিখাইল গর্বাচেভের শেষশ্রদ্ধা নিবেদেন করেছেন হাজার হাজার মানুষ, অনুপস্থিত পুতিন

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার রূপকার মিখাইল গর্বাচেভের প্রতি শেষশ্রদ্ধা নিবেদেন করেছেন হাজার হাজার মানুষ।  অনেকেই তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার রূপকার গর্বাচেভের জন্য রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়নি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙাকে ‘শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন, তিনিও গর্ভাচেভের শেষকৃত্যে যোগ দিচ্ছেন না।

ক্রেমলিন জানিয়েছে,  সর্বশেষ সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভের শেষকৃত্যে পুতিন তার সময়সূচির সীমাবদ্ধতার কারণে যোগ দিতে পারছেন না।

বুধবার গর্বাচেভের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিখাইল গর্বাচেভের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। 

মিখাইল গর্বাচেভ বিশ্বে নন্দিত ও নিন্দিত দুটোই। এক সময়ের কমিউনিস্ট নেতা ছিলেন গর্বাচেভ। রাশিয়ায় দীর্ঘসময় ধরে চলা সমাজতন্ত্রের পতন হয়েছিল তার নেতৃত্বেই। ওই পতনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।

তাই সমাজতন্ত্রবাদীদের কাছে নিন্দিত গর্বাচেভ স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য নন্দিতও বটে। অনেক রুশ গর্বাচেভকে ঘৃণা করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরাশক্তি থেকে রাশিয়াকে দুর্দশাগ্রস্ত দেশের কাতারে নিয়ে আসার জন্য অনেক রুশ এখনও গর্বাচেভকে ক্ষমা করতে পারেন না। 

সোভিয়েত পতনের পর নিজেও ক্ষমতা হারান গর্বাচেভ।  এর পর পশ্চিম দেশগুলোতে বক্তৃতা দিয়েই সময় পার করতেন। ১৯৯৯ সালে স্ত্রী রাইসা গর্বাচেভের মৃত্যুতে অনেকটাই ভেঙে পড়েন তিনি।

১৯৯৬ সালে পরিবর্তিত রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন গর্বাচেভ, তবে ভোট পেয়েছিলেন মোটে ৫ শতাংশ।

রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক সময় কড়া সমালোচক ছিলেন গর্বাচেভ। তবে ২০১৪ সালে পুতিনের নির্দেশে যখন ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া, তখন তার পক্ষেই ছিলেন তিনি। গত বছর গর্বাচভের ৯০তম জন্মদিনে তাকে আবার প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন পুতিন।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধসতর্ক বিজিবি,আতঙ্কে সীমান্তবাসী
পরবর্তী নিবন্ধশাহ্সূফী খাজা ফরিদপুরীর (র.) ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে ২ দিনব্যাপী ইসলামী সম্মেলন শুরু

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে