ত্রিশালে বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুতের মেইন লাইন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে চলছে বিদ্যুতের মেইন লাইন। দেখার যেন কেউ নেই। এতে জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, ত্রিশাল পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ড শুকতারা বিদ্যানিকেতন এলাকায় সড়কের ওপর বাঁশের খুঁটিতে মেইন লাইন ও অনেক বাসা বাড়িতেই এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে পিডিবি। বৈদ্যুতিক খুঁটি না বসিয়ে বাঁশ দিয়ে বিদ্যুতের তার টানিয়ে নেওয়া হয়েছে মেইন লাইন।

তারের ভারে বাঁশগুলো হেলে পড়েছে। কোথাও বা হেলে থাকা বাঁশ আরও একটা বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। তারের ভারে ঘরের চালের ওপর ঝুলছে বিদ্যুতের মেইন তার। ঝুঁকিতে দিন কাটছে ঘরে থাকা লোকজনের। তারে লতাপাতা জড়িয়ে বৈদ্যুতিক তারগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের খুঁটির জন্য চেষ্টা করছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু খুঁটিতে তার না ঝুলিয়ে কর্তৃপক্ষ বাঁশ বসিয়ে ঠিকা দিয়ে রেখেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় শুকতারা বিদ্যানিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ কয়েকবার লিখিত আবেদন করা হলেও বিদ্যুৎ অফিস নেয়নি কোনো ব্যবস্থা।

গত এক বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ত্রিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম ফারুক হোসেন লোক পাঠিয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের কথা বললেও এক বছরেও হয়নি সমাধান। ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে স্কুলে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ড শুকতারা বিদ্যানিকেতন স্কুলের একমাত্র সড়ক। এ সড়ক দিয়ে শতশত ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে। বাঁশের খুঁটির মধ্যে ঝুলছে বিদ্যুতের মেইন লাইন। নিচুতে ঝুলছে তার হাত দিয়ে ধরা যায়। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এর আগেও তার ছিঁড়ে পরেছে কয়েকবার।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা জানান, কয়েক বছর ধরেই আমার ঘরের চালের ওপর দিয়ে পিডিবির মেইন লাইন গিয়ে বিদ্যুতের তার টিনের চালের সঙ্গে ছুঁই ছুঁই করছে। অনেকবার বিদ্যুৎ অফিসকে জানিয়েছি তারা এসে দেখে যায় কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয় না। বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন অনেক নিচুতে থাকায় ঘর মেরামত করতে পারছি না। নতুন করে ঘর তুলতে পারছি না। আমরা কয়েকজন মিলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোরকম তার আটকে রেখেছি। তার ছিঁড়েও পরেছে কয়েকবার। সব সময় টেনশনে থাকি যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় শুকতারা বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন জানান, স্কুলের রাস্তায় পিডিবির মেইন লাইনের তার বাঁশের খুঁটিতে ঝুলে এটা খুব দুঃখজনক। আমি স্থানীয় বাসিন্দারের নিয়ে কয়েকবার লিখিতভাবে বিদ্যুৎ অফিসকে জানিয়েছি। তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কিছুদিন পর পর বাঁশের খুঁটি পচে নষ্ট হয়ে যায়, বিদ্যুতের তার ছিঁড়েও পরেছে কয়েকবার। স্কুলের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এটি। শিক্ষার্থীরা সারা দিন আসা যাওয়া করে।

পৌর ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খালেদ মাহমুদ সুমন জানান, আমি বিদ্যুৎ অফিসকে এ বিষয়টি অনেকবার জানিয়েছি। তারা এসে দেখে গেছেন। উনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ত্রিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল আহম্মেদ জানান, এইটা প্রজেক্টের কাজ। আমার আরএমজের বাইরে। আমি প্রজেক্ট ম্যানেজারকে আমিও বলেছি ও এমপি সাহেব বলেছেন দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। এটা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটা যারা প্রজেক্ট নিয়েছে তারাই কাজ করবে।

বিদ্যুৎ প্রজেক্ট ম্যানেজার আনোয়ার আকাশ বলেন, আমি সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে বিষয়টি দেখেছি। এক সপ্তাহের মাঝে খুঁটি দিয়ে তার সরানোর ব্যবস্থা করবো।

ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপার করছে গত দেড় বছরে আপনার এ বিষয়টি নজরে আসে নাই? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, লোক পাঠিয়ে বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু লেবাররা রিস্কের কাজ করতে চায় না। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজটি করে দিব

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধটাটা সন্সের সাবেক চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
পরবর্তী নিবন্ধবাসের ধাক্কাগাছের সঙ্গে , নিহত ১

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে