ঘটনার সময় সৌদি ও দুবাইয়ে প্রবাস জীবন কাটানো আতিকুর রহমান লিটু এবং মো. রাসেল নামে দুই ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরে বিএনপি-পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দেড় হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে।
এর মধ্যে নামোল্লেখ করা হয় ১৩৯ জনের। আর এ মামলায় আসামি হিসেবে নাম রয়েছে বর্তমানে সৌদি আরব ও দুবাইয়ে প্রবাস জীবন কাটানো আতিকুর রহমান লিটু এবং মো. রাসেল নামের দুই প্রবাসী।
জানা গেছে, এ ২ জনের মধ্যে আতিকুর রহমান লিটু সৌদি থেকে বাড়ি ফিরে এসে ২০২১ সালে ২ আগস্ট ছুটি শেষে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। মো. রাসেল গত দুই মাস ধরেই দুবাইয়ে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে আতিকুর রহমান লিটু উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং রাসেল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক পদধারী ব্যক্তি। এছাড়া রাসেল উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক কামাল উদ্দিন ওরফে ভিপি কামালের চাচাতো ভাই।
সৌদি আরব প্রবাসী আতিকুর রহমান লিটু উপজেলা নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের শাফিউদ্দিন পাঠানের ছেলে। দুবাই প্রবাসী মো. রাসেল উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরতেরটেকিয়া গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার ছেলে।
সোমবার কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ লোকজনকে হয়রানি করছে। আজ বিদেশে অবস্থান করেও পুলিশের এমন হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলাটি রুজু করেন পাকুন্দিয়া থানার উপ-পরিদর্শক শাহ কামাল।
ঘটনার দিনের আগে থেকেই আতিকুর রহমান লিটু এবং রাসেল বিদেশে প্রবাস জীবন কাটানো অবস্থায় কী করে আসামি হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী পাকুন্দিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. শাহ কামাল গণমাধ্যমকে জানান, আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেককে আটক করেছি। তাদের কাছ থেকে শুনেই অন্যদের নাম লিখেছি। অনেক সময় এমনও হয়, এত এত লোকের ভিড়ে এক-দুজন এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হয়ে থাকলে, তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমন বলেন, এ বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্তকালে যদি তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তারা ঘটনার সময়ের আগে থেকেই সৌদি এবং দুবাইয়ে প্রবাস জীবন কাটানোর প্রমাণ মিলে তাহলে সেভাবেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















