পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের (ল্যান্ড কমিশন) ৭ সেপ্টেম্বরের সভা স্থগিত ঘোষণা করায় হরতাল প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
কমিশনের ওই সভা প্রতিহত করাসহ সাংঘর্ষিক ধারা বাতিল করে কমিশন আইন সংশোধন এবং বাঙালি প্রতিনিধিত্বের দাবিতে রাঙামাটিতে টানা ৩২ ঘণ্টার হরতাল দেয় নাগরিক পরিষদ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এ হরতাল থাকার কথা মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শুরু হয়ে বুধবার বেলা ২টা পর্যন্ত।
কিন্তু এর মধ্যেই হরতালের কারণে ৭ সেপ্টেম্বরের সভা স্থগিত ঘোষণা দিয়ে পার্বত্য ভূমি কমিশনের সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) মো. নেজাম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুরোধে আগের নির্ধারিত সভা স্থগিত করে পরিবর্তিত সভার সময়সূচি জানানো হবে।
ভূমি কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত ওই সভা স্থগিত করায় প্রশাসনের অনুরোধে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার পর হতে হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় পার্বত্য নাগরিক পরিষদ।
শহরের বনরুপার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদকর্মীদের দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী মুজিবর রহমান।
এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর জামান ডালিম, যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুম রানা, রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কাজী মুজিবর রহমান বলেন, আমাদের হরতালের প্রভাবে পার্বত্য ভূমি কমিশনের ৭ সেপ্টেম্বরের সভা স্থগিত রাখতে বাধ্য হতে হয়েছে। এজন্য আমাদের কর্মসূচি সফল। তাই প্রশাসনের অনুরোধে মঙ্গলবার সকাল ৬টা হতে বুধবার বেলা ২টা পর্যন্ত ৩২ ঘণ্টার হরতাল শিথিল করে তা প্রথম দিন বিকাল ৩টায় প্রত্যাহার করা হল। এরপরও যদি আমাদের দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করে মনগড়া কিছু করা হলেও তাৎক্ষণিক তার প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের এ হরতাল দেওয়ার মূল কারণ ছিল ৭ নভেম্বর সভা প্রতিহত করা এবং বাঙালি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতসহ পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের সাংঘর্ষিক ধারাগুলো বাতিল করে আইনটির সংশোধন ও নতুন কমিশন গঠন করা। ভূমি কমিশন, পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা আমাদের দাবি নয়। কারণ আমরা তো সরকারেরই অংশ। তিনি মঙ্গলবার সকাল ৬ট হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাঙামাটি জেলায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
এদিকে সকাল থেকে সদরসহ জেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে শহরসহ জেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিকেটিং করেছেন হরতালকারীরা। হরতাল চলাকালে জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
হরতালের কারণে শহরসহ জেলায় সড়ক ও নৌপথে যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। এতে জনদুর্ভোগ নেমে আসে। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা আটকা পড়েন। পরে হরতাল প্রত্যাহারে বিকাল ৩টার পর হতে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।




















