বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ গর্জে উঠেছে। নুরে আলমরা প্রাণ দিতে দ্বিধা করেনি। অধিকার আদায়ে আমরা কেউ প্রাণ দিতে দ্বিধা করবো না।
রোববার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রশাসনের প্রতি এমন হুশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগনকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না। জনগন থেকেই আপনারা এসেছেন, জনগনের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন চলে, সংসার চলে। সুতরাং জনগনকে সম্মান করুন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। বেআইনি নির্দেশে কথায় কথায় গুলি করবেন না। র্যাবের ওপরে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আইন না মেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে থাকলে যেকোনো বাহিনীর ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
উত্তরার পলওয়েল কনভেনশন সড়কে বিএনপি মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হয়।
উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় এ সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ক্ষমতাসীন দল পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয়। পরে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করে বিএনপি। উত্তরার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেয়। শনিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া ১৪ দিনের ঘোষিত কর্মসূচির এটি দ্বিতীয় সমাবেশ।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমনা উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মহানগর দক্ষিনের রফিকুল আলম মজনু, তাবিথ আউয়াল, এস এম জাহাঙ্গীর, কফিল উদ্দিন, যুব দলের শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াছিন আলী, মহিলা দলের নায়েবা ইউসুফ, শ্রমিক দলের মুস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, ছাত্র দলের রাসেল বাবু প্রমূখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে মহানগর বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, আফাজউদ্দিন আফাজ, মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, সালাম সরকার, মোয়াজ্জেম হোসেন মিটু, আকবর আলী, টিপু সরকারসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের পাশে বিআরটির কাজের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ বছর ধরে এর নির্মান কাজ চলছে। ক্রেইন দিয়ে মানুষ মেরে ফেলছে। তারপরও তার কাজ শেষ হয় না। এটা নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ২১৩ কোটি টাকা। পৃথিবীর কোনো দেশে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে এতো খরচ হয় না। এভাবে তারা সারাদেশে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি চলছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার একে একে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধবংস করেছে। পার্লামেন্ট এখন একটা রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্টে পরিণত হয়েছে। এটাকে আমরা বলি গৃহপালিত পার্লামেন্ট। এখানে কোনো বিরোধী দল কাজ করে না, এখানে দেশের মানুষের সমস্যা নিয়ে আলাপ হয় না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, তেলের দাম বাড়ে, করোনার চিকিৎসা-এসব নিয়ে এই পার্লামেন্টে আলোচনা হয় না। তোষামোদি, একজনের তোষামোদি, এক ব্যক্তির তোষামোদি হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাজা দেয়া হয়েছে, তার প্রতি অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে। তাকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে-এটা কোনো মামলাই নয়। খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে সব ডাক্তারা বলেছেন। কিন্তু এরা তাকে বাইরে চিকিৎসা করতে দিতে চায় না। কারণ দেশনেত্রীকে তারা ভয় পায়। যদি উনি আবার বেরিয়ে আসেন, আবার রাজপথে নামেন তাহলে হ্যামিলোনের বংশীবাদকের মত লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামবে। তখন তাদের তখতে তাউস উড়ে চলে যাবে।




















