পুরোপুরি কালো না,পাতিহাঁসের ধূসর রঙের ডিম

ভোলার চরফ্যাশনে পাতিহাঁসের কালো ডিম নিয়ে চাঞ্চল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই চরফ্যাশন পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সন্ধান মিলল আরও ২টি ডিমের। তবে এটি পুরোপুরি কালো না হলেও ধূসর রঙের। দেশি হাঁসের ডিমের এমন রং হয় না বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। 

বারবার কেন এমনটি হচ্ছে- তা নিয়ে চিন্তিত খোদ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরও। এটি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ওই দপ্তরের কর্মকর্তারা। 

জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর চরফ্যাশনের জিন্নাগড় ইউনিয়নে রূপকথার গল্পের মতই সন্ধান মিলল কালো ডিমপাড়া পাতিহাঁসের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে আবার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চরফ্যাশন পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতারুল আলমসামুর বাড়িতে গত দুই দিন ধরে একটি হাঁস কালো ডিম পাড়ছে। ওই বাড়ির গৃহিণী জুলেখা আক্তার তিনটি দেশি জাতের হাঁস পালন করেন। তার মধ্যে একটি হাঁস কালো বর্নের ডিম পাড়ছে। হাঁসের কালো ডিম পাড়ার এ ঘটনা নিয়ে প্রথমে তারা না ভাবলেও বর্তমানে কালো ডিম পাড়ার রহস্য নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে পরিবারটির সদস্যদের। এ ঘটনার সঠিক রহস্য জানতে জান তারা। বারবার কেন এমন হচ্ছে সেই রহস্য উদঘাটনের দাবি এলাকাবাসীরও। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে ছুটে আসছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারাও। 

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কোনো রোগের লক্ষণ নাকি ক্রসের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। এসব ডিম দ্রুত পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

হাঁসের মালিক জুলেখা আক্তার বলেন, আমি তিনটি হাঁস পালন করি; তাদের বয়স নয় মাস থেকে এক বছর হবে। একটি হাঁস ডিম পাড়ে, তবে প্রতিদিন নয়, কখনো কালো আবার কখনো সাদা রঙের ডিম পাড়ে। এখন শুক্রবার থেকে শুধু কালো রঙের ডিম পাড়ছে। 

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শংকর কৃষ্ণ দাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছি। তবে এ ডিমগুলো পুরোপুরি কালো না হলেও আংশিক কালো, মানে ধূসরবর্ণের। আমরা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, বিষয়টি বিস্ময়কর। এ নিয়ে দুটি ঘটনা ঘটল। আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি অন্য কোনো জাতের সঙ্গে এ হাঁসটির ক্রস হয়েছে। আমরা স্যাম্পল কালেকশন করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে এর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করব। 

এদিকে সাগর উপকূলে অবস্থান থাকায় চরফ্যাশন উপজেলার আবহাওয়া, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত পার্থক্য কিছুটা থাকলেও কালো ডিমের রহস্য দ্রুত উদঘাটনের দাবি পরিবেশবিদদের।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধগণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতি
পরবর্তী নিবন্ধহাওড়ডুবি ও বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য ১৩ দফা প্রস্তাবনা 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে