নাটোরের বড়াইগ্রামে পরকীয়ার সন্দেহে মেয়ের সামনেই স্ত্রী বিউটি খাতুনকে (৪৫) গলা কেটে হত্যা করেছে স্বামী আব্দুল বারেক সরকার (৪৮)।
শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজ ঘরে ওই গৃহবধূকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় স্বামী। উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুলপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
আবদুল বারেক ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ সরকারের ছেলে। সে পেশায় একজন ভটভটি চালক। নিহত বিউটি ওই এলাকারই আলতাফ হোসেনের মেয়ে। তাদের সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।
ঘটনার রাতে ঘরে ১২ বছর বয়সি মেয়ে মাহি আক্তার উপস্থিত ছিল এবং মেয়ের সামনেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেশী ও থানা সূত্রে জানা যায়, বিউটি খাতুনের একই এলাকার জনৈক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করত আবদুল বারেক। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শনিবার রাতেও মোবাইল ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে স্বামী আবদুল বারেক ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী বিউটির গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ সময় মেয়ে মাহির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বিউটি বেগমের রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ৯৯৯ এ কল দিলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের মেয়ে মাহি খাতুন জানায়, তার বাবা তার মাকে হাসুয়া দিয়ে গলা কেটে মেরে ফেলেছে। এরপর ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা তার বাবা ঘটিয়েছে এটা যেন কাউকে না বলে সে জন্য মেয়েকে শাসিয়ে যায়।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘাতক স্বামীকে আটক করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




















