সীতাকুণ্ডে গোসলের সময় গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ধর্ষক যুবক আব্দুল্লা আল মামুন (২৫) উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের নতুনপাড়ার আনোয়ার মেম্বার বাড়ির মাহবুব আলমের পুত্র।
এ বিষয়ে ভূক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করার পর শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়বকুন্ড বাজার থেকে মামলার ১নং আসামি আব্দুল্লা আল মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামীর বাড়ির পুকুরে গোসল করার সময় বিবাদী মামুন গোপনে কিছু নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। গৃহবধূর স্বামী চাকরিতে থাকায় তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে একা পেয়ে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে মুখে কাপড় ঢুকিয়ে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ধর্ষণ করে।
গৃহবধূকে পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতির সঞ্চার করে ধর্ষণের বিষয়ে কারো কাছে কিছু বললে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করারও হুমকি দেয়। ধর্ষিতা গৃহবধূ তার নিজের পরিবার ও স্বামীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় বিবাদী মামুন পূর্বের ন্যায় ভয়ভীতি দেখিয়ে একই কায়দায় গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই গৃহবধূ চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় মামুন।
২০২১ সালের এপ্রিলে গৃহবধূ একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। শিশু কন্যাটির চেহারার সাথে ধর্ষক আল মামুনের চেহারার অবিকল মিল রয়েছে। সর্বশেষ ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা কানাঘুষা করতে থাকেন। প্রতিবেশীরা গৃহবধূকে জিজ্ঞাসা করলে ভুক্তভোগী গৃহবধূ প্রতিবেশীদের পূর্বের সব ঘটনা খুলে বলেন।
ধর্ষিতা ওই গৃহবধূর স্বামী নুরুল হুদা সুমন বলেন, আমার স্ত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের পর আমার স্ত্রীর গর্ভে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তানের চেহারার সাথে ধর্ষকের চেহারার মিল থাকায় প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা করতে থাকেন। এতে আমার স্ত্রী লজ্জায় বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আমি তাকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা দিই। মামলার বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক নাছরুল্লাহ বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার ১নং আসামি মাহবুব আলমকে বাড়বকুন্ড বাজার থেকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




















