ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টান টান উত্তেজনা, দুদলের খেলোয়াড়দের যুদ্ধংদেহী অবস্থা। বাইশ গজের লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে দুই দলের সমর্থকদের মাঝেও।
রোববার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তেমনই এক যুদ্ধ উপভোগ করবে ক্রিকেটবিশ্ব, যা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়।
গত কয়েক দিন ধরে ম্যাচটি রয়েছে চর্চায়। কে ফেভারিট তা নিয়েই চলছে তর্ক-বিতর্ক। বিশ্বকাপে ভারতের সামনে পাকিস্তান চুপসে যায়— এমন ধ্বনি তুলে রোহিত শর্মাদের এগিয়ে রাখছেন কেউ কেউ।
এছাড়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মুখোমুখি দেখায় পাকিস্তানের থেকে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। ১২ ম্যাচ খেলে ভারত জিতেছে ৯টিতেই, পাকিস্তানের জয় মাত্র ৩টি।
তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে পাকিস্তানকে ফেভারিট মানছেন অনেকেই। কারণ ভারতের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ তিন ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে পাকিস্তান।
গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারানোর পর সবশেষ এশিয়া কাপে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাবর আজমের দল। সেবার খেলেননি দলের পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র শাহিন শাহ আফ্রিদি।
নাসিম শাহ, হারিস রউফদের নিয়েই ভারত দলকে কুপোকাত করেছিল পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, শতভাগ ফিট এখন আফ্রিদি। অনুশীলনে ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে তাকে।
ভারতবধে কেমন হবে পাকিস্তান দলের একাদশ? মাথায় বলের আঘাত লেগে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শান মাসুদকে আজ মহারণে পাবেন কি বাবর?
পাকিস্তান অধিনায়ক জানিয়েছেন, শান মাসুদকে নিয়ে শঙ্কা নেই। তবে টপঅর্ডারের স্তম্ভ ফখর জামানকে নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাবর আজম জানান, ভারতের বিপক্ষে নামার আগে শান মাসুদ পুরোপুরি ফিট। তাকে পাওয়া যাবে। তবে ফখর জামান হাঁটুর চোট নিয়ে বিব্রত। তিনি এখনো পুরোপুরি ফিট নন। তিনি অন্তত প্রথম দুটি ম্যাচ মিস করবেন।
বোলিংয়ে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়েই নামবেন বলে ইঙ্গিত দিলেন বাবর।
ম্যাচের আগে বাবর জানিয়েছেন, ভারতের প্রত্যেক ব্যাটারের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা তৈরি তাদের। মাঠে সেটি কাজ করে দেখাতে হবে।
সে ক্ষেত্রে পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকেই নিতে হবে প্রধান দায়িত্ব। গত বিশ্বকাপে এ পেসার একাই ভারতীয় দলের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন। এবারও শুরুতে সেই শাহিনকেই সামনে আনবেন পাক অধিনায়ক।
সঙ্গে হারিস রইফ ও নাসিম শাহরাও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বাবর আজম বলেন, রিপোর্ট বলছে— শান মাসুদ ভালো আছে। ভারতের বিপক্ষে নামতে তৈরি সে। তবে ফখর জ়ামানের চোট রয়েছে। দ্রুত সুস্থ হচ্ছে ও। শুরুর কয়েকটি ম্যাচে পাওয়া যাবে না তাকে।
দলের পেস আক্রমণ নিয়ে বাবর বলেন, আমাদের দারুণ একটা পেস আক্রমণ রয়েছে। শাহিন (আফ্রিদি) দলে ফিরেছে। নাসিম ভালো বল করছে। হারিস রউফ বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্নের দলের হয়ে খেলে। ও আমাদের এই মাঠ সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করছে।
স্পিনে শাদাব খানের বিকল্প নেই। এশিয়া কাপে তার দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, যথা নিয়মে উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে বাবর আজম দারুণ একটা ওপেনিং করতে পারলেই সুবিধাজনক পর্যায়ে থাকবে পাকিস্তান।
সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ম্যাচগুলোতে দেখা গেছে, ওপেন করতে নেমে বাবর ও রিজওয়ান রান না পেলে মিডলঅর্ডার সেই চাপ সামলাতে পারেনি।
তবে সে কথা অনেকটা অস্বীকার করে মিডলঅর্ডারকে সাহস জোগাতেই কিনা বাবর বলেন, দলের মিডলঅর্ডারের ওপর আমার ভরসা আছে। ওরাও আমাদের ম্যাচ জেতাতে পারে।
কেমন হতে পারে মিডলঅর্ডার?
দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজও। সাত নম্বর থেকে তাকে মিডলঅর্ডারে নিয়ে আসার পর দারুণ ব্যাট করছেন তিনি। সে হিসাবে মিডলঅর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকা পাকিস্তানের দায়িত্ব নিতে পারেন হায়দার আলি, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও ইফতিখার আহমেদ।
শেষ দিকে হার্ডহিটার আসিফ আলিকে দিয়ে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে সংগ্রহ বাড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে বাবর আজমের।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশ
বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহম্মদ রিজওয়ান, শান মাসুদ, হায়দার আলি, শাদাব খান, মোহম্মদ নওয়াজ, ইফতিখার আহমেদ, আসিফ আলি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি।