অভিভাবক ও ছাত্রদের হামলায় ৪ শিক্ষক ও একজন ছাত্র আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বারদি স্কুল এন্ড কলেজে মঙ্গলবার বিকেলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক একেএম রেজওয়ানুল হক বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদি স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র বাগেরপাড়া গ্রামের তাইজুল ইসলামের ছেলে তানজিমের সঙ্গে হামলাকারী আরাফাতের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্কুল চলাকালে আরাফাতের নেতৃত্বে রায়হান, সাইফুল ইসলাম, শ্রাবন, রিফাত, হাবিবুর রহমানসহ ৫-৭ জনের একটি দল লাঠিসোটা, বাঁশ, হকিস্টিক, কাঠের খণ্ড ও দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তানজিমের উপর হামলা চালায়।
এসময় তার ডাক-চিৎকারে শিক্ষকরা ওই ছাত্রের সুরক্ষায় এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ইংরেজি শিক্ষক একেএম রেজওয়ানুল হক, সহকারী শিক্ষক সুমন চক্রবর্তী, মতিউর রহমান, মাহবুবুল ইসলামকেও পিটিয়ে জখম করে। পরে তাদের অভিভাবক ও হামলাকারীরা একত্রিত হয়ে স্কুলের দরজা, জানালা, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা শিক্ষকদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
আহত শিক্ষক একেএম রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘স্কুলের আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত শুরু হয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন কারণে স্কুলের পাশে ছাত্রদের মধ্যে মারামারি হয়ে থাকে। পারিবারিক বিরোধে এক ছাত্রকে মারধরের এক পর্যায়ে শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে আমিসহ ৪ শিক্ষক হামলার শিকার হয়েছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।’
বিদ্যাপীঠের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল বলেন, হামলার ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক তদন্ত মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বে সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















