ফরিদপুরের সদরপুরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তির ডান হাতের কব্জি কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এর প্রতিবাদে ওই ব্যক্তির অনুসারীরা হামলাকারীদের এলাকায় বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাট করেছে।
বুধবার বেলা ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারী, যাত্রাবাড়ী, গৌরচর ও নিজগ্রাম এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়া ব্যক্তির নাম গিয়াস তালুকদার (৫২)। তিনি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার আগে থেকেই বাম হাত ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গিয়াস তালুকদারের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি, সদরপুর, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, মারামারিসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০০২ সালে এক ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় তার (গিয়াস) বাঁ হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর থেকে এলাকায় তিনি ‘হাতকাটা গিয়াস’ নামে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটকৃষ্ণপুর বাজারের নিয়ন্ত্রণ এবং ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আকতারুজ্জামানের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলে আসছিল। এই দুজন এলাকায় নিজস্ব দুটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। মাঝেমধ্যে এ দুই বাহিনী মারামারিতে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
গিয়াস তালুকদার এলাকার আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে কখনো আকতারুজ্জামান, আবার কখনো বিল্লাল ফকিরের হয়ে কাজ করেন বলে জানান স্থানীয়রা। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি (গিয়াস) আকতারুজ্জামানের হয়ে কাজ করেন। সম্প্রতি তিনি পক্ষ পরিবর্তন করে বিল্লাল ফকিরের সঙ্গে যোগ দেন।
ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে গিয়াস তালুকদার মারা গেছেন এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে বিল্লাল ফকিরের সমর্থকরা যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রামসহ আশপাশের গ্রামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। গ্রামগুলোয় আকতারুজ্জামানের সমর্থকদের বসবাস। পরে আকতারুজ্জামানের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময়ও বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পরে সদরপুর থানার পুলিশ ও র্যা ব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিল্লাল ফকির বলেন, গিয়াস বুধবার বেলা ১টার দিকে ঢাকা থেকে সদরপুর আসছিলেন। পথে ঠেঙ্গামারী এলাকায় ইজিবাইক থামিয়ে গিয়াসকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান হাতের কব্জি কেটে নিয়ে যায় আকতারুজ্জামানের লোকজন। তারা গিয়াসের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে একটি রিকশাভ্যানে উঠিয়ে দেয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় গিয়াসকে প্রথমে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসিফুল আলম বলেন, গিয়াস তালুকদারের ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে আকতারুজ্জামান বলেন, বিল্লাল ফকিরের সমর্থকরা বুধবার বেলা ২টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের গ্রামে তার সমর্থকদের ১৪ থেকে ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকটি গরু লুট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ওসি সুব্রত গোলদার বলেন, সময়মতো পুলিশ উপস্থিত হওয়ার কারণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটতে পারেনি।




















