লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মেহেদী (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে ৯ বছরের এক ছাত্রকে ধর্ষণ করে শিক্ষক আবদুর রশীদ পলাতক থাকায় মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক দুই ঘটনায় অভিভাবকরা বুধবার রাতে থানায় মামলা করেছেন।
আহত শিশু ও অভিযুক্ত কিশোরকে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে শিশুকে সদর হাসপাতাল ও অভিযুক্ত কিশোরকে লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি শিপন বড়ুয়া।
তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা কিশোর মেহেদি বলছে, শিশুর অভিভাবক ঘটনাটি সাজিয়েছেন।
মাদ্রাসা সুপার জানান, তার মাদ্রাসার পলাতক শিক্ষককে না পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া গ্রামের পাশের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসাছাত্রের ঘটনা ১২ সেপ্টেম্বর ও ৯ নভেম্বর রাতে পৌরসভার লেংড়াবাজার এলাকার তাহফিজুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত বখাটে কিশোর মেহেদী হাসান রাখালিয়া গ্রামের অটোচালক জহিরের ছেলে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাশপুর গ্রামের সোবহানের ছেলে।
রায়পুর থানার ওসি শিপন বড়ুয়া পৃথক দুটি ঘটনার কথা নিশ্চিত করেন।
শিশুর মা ও নানি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিশু মাদ্রাসা থেকে নানাবাড়িতে যাওয়ার পথে মুখ চেপে কৌশলে নির্জন লাকড়ির ঘরে নিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করে প্রতিবেশী ওই কিশোর। এ সময় আহত শিশুটি কান্না করে তার নানিকে ঘটনাটি জানায়। পরে মেহেদিকে আটক করতে গেলে সে থেকে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসার কক্ষেই ওই ছাত্রকে বলাৎকার করে (যৌন নিপীড়ন) শিক্ষক আবদুর রশিদ। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর গোপনে মাদ্রাসা কমিটি ছাত্রের অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠকে করে জরিমানা করান। কিন্তু তা ভুলে গিয়ে ওই শিক্ষক আবার ৯ নভেম্বর রাতে ওই ছাত্রকে বলাৎকার করে পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে মাদ্রাসার সুপারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ওসি শিপন বড়ুয়া জানান, বুধবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করলে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে শহরের লেংড়াবাজারে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
শিক্ষক পলাতক থাকায় সুপার ওজায়ের হোসেনকে জিজ্ঞাবাদের জন্য আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শিশুকে সদর হাসপাতাল ও অভিযুক্ত কিশোরকে লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।




















