আগামী ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জনসভায় ভাষণ

কক্সবাজারে তিন লাখের অধিক মানুষ নিয়ে স্মরণকালের বড় জনসমাবেশ ঘটাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগামী ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জনসভায় ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

করোনাপরবর্তী সময়ে ৪ ডিসেম্বর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পর পর্যটন শহর কক্সবাজারে হতে যাচ্ছে এই জনসভা। এই জনসভাকে সফল ও সার্থক করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার জেলাপর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও।

এ জনসভায় তিন লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি চলছে স্থানীয় পর্যায়ে। এই প্রস্তুতিকে চাঙ্গা রাখতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা ও কর্মিসভা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার থেকে বড় শোডাউন দিতে চায় ক্ষমতাসীনরা। পাশাপাশি বিএনপির আগামী ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের বিপরীতে এ জনসভাটি রীতিমতো জনসমুদ্রে রূপ দিতে চায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে সরেজমিন কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের চারপাশে চলছে সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি পর্যটন স্পট ইনানী, হিমছড়ি ও কলাতলী থেকে শুরু করে পুরো শহর চেয়ে গেছে নেতাকর্মীদের পোস্টার ও ব্যানারে। প্রিয় নেত্রীকে স্বাগতম জানাতে রাস্তার দুই পাশে এবং বিশেষ বিশেষ আকর্ষণীয় স্থানে শোভা পেয়েছে বিশাল আকারের ডিজিটাল ব্যানার। 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী মাবু যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এদেশের ১৬ কোটি মানুষের আস্থার ঠিকানা শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলার ৯ উপজেলা ও চার পৌরসভাসহ প্রত্যেকটি সাংগঠনিক ইউনিটে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো তিন লাখের অধিক মানুষের সমাগম হবে এ জনসভায়। 

কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমদুল করিম মাদু বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ জনসভাকে সফল করার লক্ষ্যে কয়েক দফা প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে। আমার সাংগঠনিক উপজেলা থেকে অন্তত ৩০ হাজারের অধিক লোকজন নিয়ে জনসভায় যোগদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ বলেন, ৭ ডিসেম্বর জনসভা। আর ১৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই দুই প্রোগ্রাম নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বেশ চাঙ্গা রয়েছে। যে কারণে অনেক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আমাদের নেত্রীর জনসভা সফল করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে জনসভায় তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, এ জনসভা হবে স্মরণকালের সেরা জনসভা। বিএনপি-জামাতকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে কক্সবাজারের মাটি শেখ হাসিনার ঘাঁটি।

তিনি বলেন, এই জনসভার জনস্রোত দেখে আশা করি বিএনপি বুঝে যাবে জ্বালাও-পোড়াও করে এ দেশের জনগণের ভালোবাসা কিংবা উন্নয়ন স্থবির করা যাবে না। 

এ জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে জেলার নেতাদের পাশাপাশি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। এছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেকেই ইতোমধ্যে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। 

এদিকে পর্যটন নগরীর জনসভা সফল করতে বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রত্যেক উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের হুইপ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। এছাড়াও সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য জাফর আলম, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, শেখ হাসিনা ১৪ বছরে কক্সবাজারে রেকর্ড সংখ্যক উন্নয়ন করেছে, যা একটি বিভাগের তুলনায় বেশি। বিএনপি বলছে টেকবেক বাংলাদেশ। তার মানে হলো বাংলাদেশকে আবার পিছিয়ে নেওয়া; যা হতে দেওয়া হবে না।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধচ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম রাউন্ড শেষ করল আর্জেন্টিনা
পরবর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা নেতা মুহিব্বুল্লাহকে হত্যা করা হয়

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে