টানা দুই মেয়াদের বেশি নয়, ভারসাম্য আনা হবে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায়

টানা দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন না করার নিয়ম চালুসহ বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা বদলে ফেলতে ২৭ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে বিএনপি। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ২৭ দফার এ রূপরেখা দেয় দলটি। সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্যে ১০ দফা ও নতুন কর্মসূচি ঘোষণার এক সপ্তাহ পর এ রূপরেখা ঘোষণা করা হলো। রূপরেখার উল্লেখযোগ্য দফাগুলো হচ্ছে-সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন, নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন, পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন সংশোধন, জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ ও দায়ীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মিডিয়া কমিশন গঠন, ন্যায়পাল নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন। এছাড়া বাংলাদেশ ভূখন্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত না করা, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথাও রয়েছে ঘোষিত রুপরেখায়। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ রূপরেখা তুলে ধরেন। এসময় তিনি জানান, গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সেটির মালিকানা আজ জনগণের হাতে নেই। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয়লাভের পর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ওই ‘জাতীয় সরকার’ রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক এসব সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখার ঘোষণার আগে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীতে জাতীয় সরকার গঠন এবং দলের প্রনীত রুপরেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ‘১৯- দফা’ এবং খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ এর আলোকে এই রূপরেখাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা ছাড়াও রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। দফা ৫-এ বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে। পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধযে কারণে আগে বিয়ে করার উপদেশ দিলেন শাহরুখ
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপি কি দেশে ‘মার্শাল ডেমোক্রেসি’ আনতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে