লেখক হিসেবে কেমন ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান

শেখ মুজিবুর রহমান লেখক হিসেবে হাজির হয়েছেন অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন—আত্মস্মৃতিমূলক তিনটি বইয়ের মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর লেখার বৈশিষ্টগুলো কী কী? তাঁর লেখকসত্তার তত্ত্বতালাশ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লেখক ছিলেন না। তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ; জাতীয়তাবাদী নেতা। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তিনি বরাবর এত বেশি রাজনীতিলিপ্ত ছিলেন যে আনন্দবাজার, বসুমতী, আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, সওগাত পত্রিকা রাখা একটা পরবিারে বেড়ে উঠেও পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনে ‘আউটবুক’ পড়াশোনায় খুব একটা মনোনিবেশ করার অবসর পাননি। তিনি একই দেহে ছিলেন নেতা ও কর্মী। কখনোই তিনি পড়াশোনা করে পণ্ডিত, তাত্ত্বিক হতে চাননি। চেয়েছিলেন রাজনীতির ভেতর দিয়ে সাধারণ মানুষের মুক্তি। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় তিনি মনে করতেন, ‘পাকিস্তান না আনতে পারলে পড়ালেখা শিখে কী করব?’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা: ৩২) কলকাতায় আবুল হাশিমের রাজনৈতিক দর্শনের ক্লাস সম্পর্কে তিনি বন্ধুদের বলতেন, ‘তোমরা পণ্ডিত হও, আমার অনেক কাজ। আগে পাকিস্তান আনতে দাও, তারপরে বসে বসে আলোচনা করা যাবে।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা: ৪১) সর্বক্ষণ জনগণনিষ্ঠ একজন নেতা ও কর্মীর বক্তব্য যা হওয়ার, এ হয়তো তাই-ই। নিজে পড়াশোনা করার খুব একটা অবসর না পেলেও তিনি অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন নামে তিনটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। নিজে পড়াশোনার খুব একটা অবসর না পাওয়ায় তাঁর রচিত বইগুলোতে তাঁর লেখকসত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কৌতূহল হতেই পারে, নিজের লেখা বইগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমান লেখক হিসেবে কেমন!বলে রাখা দরকার, বই তিনটি শেখ মুজিবের জেলজীবনের অবসরে লেখা। এগুলো মূলত তাঁর আত্মজৈবনিক রচনা। আত্মজৈবনিক গ্রন্থে আমরা সাধারণত লেখকসত্তার খোঁজ কম করি। সেখানে সময় ও ব্যক্তির বেড়ে ওঠার পথরেখার দিকেই আমাদের নজর বেশি থাকে। কিন্তু এসব বই পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আত্মজীবনের বিবরণের ফাঁকে ফাঁকে একজন লেখক মুজিবও উঁকি দিয়েছেন।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধকেনার সাধ্য কম, রোজার পণ্যে চাহিদা বেশি
পরবর্তী নিবন্ধসংসদ সদস্যের সামনে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে