সংসদ সদস্যের সামনে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ২০টি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।আজ শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় আ স ম ফিরোজের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এ এস এম সায়েম বলেন, আবদুল মোতালেবের ডান হাতের তৃতীয় আঙুল কেটে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। তাঁর বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের কনুইয়ের ওপরের অংশে জখম রয়েছে। পা ও মাথায় আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাউফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, তিনটি পক্ষই একই সময়ে কর্মসূচির ডাক দেয়। এর মধ্যে আ স ম ফিরোজ এবং আবদুল মোতালেব হাওলাদারের পক্ষের কর্মসূচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (জনতা ভবন) এবং বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক ওরফে জুয়েলের পক্ষের কর্মসূচি বাউফল প্রেসক্লাব সড়কের পাশে উপজেলা আওয়ামী লীগ আরেকাংশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।কর্মসূচির স্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছিলেন সমর্থকেরা। বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হকের পক্ষের সমর্থকেরা বাউফল সরকারি মাঠে, আ স ম ফিরোজের পক্ষের সমর্থকেরা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ও আবদুল মোতালেবের পক্ষের সমর্থকেরা বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হন।আবদুল মোতালেবের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে আনন্দ র‍্যালি নিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের (জনতা ভবন) দিকে যাচ্ছিলেন নেতা–কর্মীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এতে বাধা দেয়। তখন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আবদুল মোতালেবের কথা–কাটাকাটি হয়। অপর পাশেই লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন আ স ম ফিরোজের সমর্থকেরা। তখন আ স ম ফিরোজ ছাদখোলা একটি গাড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধলেখক হিসেবে কেমন ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান
পরবর্তী নিবন্ধলাখ লাখ মৃত মাছ ভেসে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার নদীতে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে