র‌্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান ফর্মে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

১৫ বছর আগেও আফগানিস্তানে ছিল না টার্ফের উইকেট আর সবুজ মাঠ। তাদের ক্রিকেটের প্রথম প্রজন্ম ক্রিকেট শিখেছে পাকিস্তানের শরণার্থীশিবিরে। সীমিত সুযোগ নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটি টি-টোয়েন্টিতে এখন সমীহ-জাগানিয়া দল। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব উর রহমান, ফজলহক ফারুকির মতো বোলারদের কদর বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে।

কিভাবে এত মানসম্পন্ন বোলার উপহার দিচ্ছে আফগানিস্তান? বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান, ‘আফগানিস্তানের ব্যাপারটা হলো সহজাত প্রতিভা আর এটাই আমাদের আরো বিশেষ করে তুলেছে।’
ক্রিকেটার বের করে আনার মতো ঘরোয়া লিগ না হলেও প্রতিভার জোরে আফগান বোলারদের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হওয়ায় এর ছাপ পড়েছে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে। বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরে রশিদ খান, দুইয়ে ফজলহক ফারুকি আর ৯ নম্বরে মুজিব উর রহমান।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ র‌্যাংকিংধারী বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের অবস্থান ২১ নম্বরে। কিন্তু ক্রিকেট ম্যাচ জেতায় ফর্ম, র‌্যাংকিং নয়। সাম্প্রতিক ফর্মে যেমন বাংলাদেশি বোলাররা আফগানদের চেয়ে এগিয়ে। এ জন্যই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ছক্কাবাজ আফগানদের ১৫৪ রানে থামিয়ে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

তাসকিন আহমেদের কথাই ধরা যাক। এই ফরম্যাটে ৫৩ ম্যাচে তাঁর উইকেট ৪৯টি। ক্যারিয়ারের শুরুর ১০ ম্যাচে কোনোটিতে দুই উইকেটের দেখা পাননি বাংলাদেশের এই পেসার। টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে তাসকিন এখন ৩৫ নম্বরে। তবে সাম্প্রতিক ফর্মে রশিদ, ফজল, মুজিব—তিনজনকেই পেছনে ফেলেছেন তাসকিন।

সর্বশেষ ১২ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট ২১টি। সেখানে ১১ ম্যাচে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা রশিদের উইকেট ১৪টি। সমান ১২ ম্যাচে ফারুকির উইকেট ১২ ও মুজিবের ১১টি। এই ১২ খেলার মধ্যে আফগানিস্তান সর্বোচ্চ চার ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে আর আরব আমিরাতের সঙ্গে তিনটি। একটি করে ম্যাচ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের সঙ্গে।
তাসকিনের খেলা ১২ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করেছে বর্তমান টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। তিনি একটি করে ম্যাচ খেলেছেন ভারত, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে এই সময়ে তাসকিনের সমান ১২ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর উইকেট ১৬টি, যা র‌্যাংকিংয়ে সেরা দশে থাকা তিন আফগানের চেয়েই বেশি। যদিও বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে সাকিব আছেন ২৪ নম্বরে।

সর্বশেষ ১২ ম্যাচে রশিদ খানের সমান ১৪ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদও। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে তিনটি, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে আছে দুটি করে উইকেট। র‌্যাংকিংয়ে হাসান আছেন ৪৬ নম্বরে।

আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমানের তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। মুজিব যেখানে সর্বশেষ ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট, সেখানে মিরাজ ৯টি। এর মধ্যে আছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে ৪ ওভারে ১২ রান খরচায় ৪ উইকেট, যা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা। এমন পারফরম্যান্সে জিতেছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে মিরাজ ৪২ নম্বরে।

 এই সময়ে ৯ উইকেট মুস্তাফিজুর রহমানেরও। র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ২১ নম্বরে থাকলেও তাঁর ফর্মটা হতাশার। সর্বশেষ ১২ ম্যাচে উইকেটের দেখা পাননি ছয়বার। ক্রাইস্টচার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিবর্ণ এই পেসারের খরচ ৪৮ রান। তবে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন মুস্তাফিজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ১৪ রান। বাংলাদেশি বোলারদের এমন ফর্মের প্রত্যাশায়ই পুরো দেশ। তাতে র‌্যাংকিং অবস্থান যা-ই হোক, তাঁদের সমীহ না করে উপায় থাকবে না কারো।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধবিদেশির সঙ্গে প্রেম-বিয়ে, মিলনের আগেই চাঁদনী নিভে গেল

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে