সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় বাজার মাত করা নানা ঘোষণা আসার রেওয়াজ এ দেশে নতুন নয়। অনেক ক্ষেত্রে সময়ে সেসব মুখ থুবড়েও পড়ে। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দলের ওয়ানডে সাফল্যকে ঘিরে আসা যত ঘোষণা আবার তেমন চটকদার কিছু নয় তো?
বিসিবির নারী ক্রিকেট কমিটির প্রধান শফিউল আলম চৌধুরী অবশ্য ঘোষিত নানা কর্মসূচির একটিও নতুন নয় বলেই দাবি করলেন, ‘এই সাফল্যের কারণেই আমরা এটি করব, ওটি করব—এ রকম কিছু কিন্তু নয়। আমাদের যেসব পরিকল্পনা ছিল, সেগুলোই আমরা অব্যাহত রাখব।
বোর্ড সভাপতি যা যা করার ঘোষণা দিয়েছেন, এর সব নিয়ে আমরা আগে থেকেই কাজ করছিলাম।’
সেটি স্কুল ক্রিকেট নিয়ে যেমন, তেমনি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নিয়েও। শফিউল এটিও মানছেন যে তাঁরা আগে থেকে অনেক কিছু নিয়ে কাজ করে যেতে থাকলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রেই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। সাফল্য নিয়ে সেই ‘বাধার দেয়াল’ ভাঙার কৃতিত্বও নিগার সুলতানাদের অকুণ্ঠেই দিচ্ছেন তাঁদের অভিভাবক, ‘ওদের সাফল্য আমাদের কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হলো।
কাজ করার পথ এখন আরো মসৃণ হবে। মেয়েরা ওদের কৃতিত্ব দিয়েই এই বাধাগুলো অতিক্রম করেছে। ওদের সাফল্য আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে আরো গতিশীল করবে।’
হিমাগার থেকে বেরিয়ে যেন উষ্ণতা খুঁজে নিতে শুরু করেছে থমকে থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট।
গতকাল থেকেই চাকা লাগিয়ে ছুটতে শুরু করেছে এটি। অথচ ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজ শুরুর আগেও মেয়েদের বিপিএলকে কর্তাদের কাছে মনে হচ্ছিল দূরের তারা। সাফল্য সেটিকেও এনে দিল হাতের নাগালেই। গতকাল রাজধানীর এক পাঁচতারা হোটেলে নিগারের দলকে নিয়ে বসা বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান ৩৫ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণার পাশাপাশি মেয়েদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দাবিকে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদনও দিয়েছেন।
সেখানে উপস্থিত শফিউল বলছিলেন আগের জটিলতার কথাও, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আমাদের বিবেচনায় থাকলেও আমরা খুব একটা অগ্রাধিকার দিতে পারছিলাম না।
এই সাফল্যের কারণে সেটিও গতি পেল। স্পন্সর বলেন, বাড়তি খরচের ব্যাপারও আছে। আজ পাপন ভাই বলেছেন, বাইরে থেকে দল মালিক পাওয়া না গেলে বিসিবি নিজস্ব অর্থায়নে চারটি দল করবে।’
স্কুল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেয়েদের ক্রিকেটকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার ভাবনাও হালে পানি পেল এবার, ‘স্কুল ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা প্রথম বসেছিলাম আজ থেকে তিন বছর আগে। সব বিভাগের সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বসে পরামর্শ করেছিলাম কিভাবে স্কুল ক্রিকেটটি করা যায়। আমরা যে কাজগুলো করি, তা তো জেলা ও বিভাগের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হয়। এবার প্রত্যেক বিভাগে না পারলেও কিছু জায়গায় আমরা শুরু করব।’
তাতে নারী ক্রিকেটারের সংকটও মিটে যাবে বলে আশা শফিউলের, ‘ধরুন, প্রতিটি বিভাগে সাত-আটটি করে স্কুল অংশ নিল প্রথমবার। তাহলে সব বিভাগ মিলিয়ে খেলবে প্রায় হাজারখানেক ক্রিকেটার। এর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ টিকলেও তো একটি বড় সংখ্যাই যোগ হবে। প্রতিবছর সংখ্যাটি বাড়তেই থাকবে।’
গত বছর চারটি দলকে নিয়ে করা দুই দিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতাও এবার তিন দিনের হয়ে যাচ্ছে। এই সাফল্যের আগেও অনেক কিছু যোগ হওয়ার উদাহরণও টানলেন শফিউল, ‘‘আজ থেকে তিন-চার বছর আগে নারীদের একটিই দল ছিল। এখন ‘এ’ দলের মতো একটি দল আছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল আছে, অনূর্ধ্ব-১৭ দল আছে। টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে। সুযোগ-সুবিধা এবং বেতনও বেড়েছে। এসব অব্যাহত থাকবে।’’



















