আলোচনাতেই সন্তুষ্ট মন্ত্রী-সচিব

থাইল্যান্ড সরকারি পর্যায়ে চাল দেবে না। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া দিতে চায় আতপ চাল। কৃষি খাতে বিনিয়োগ চায় কম্বোডিয়া।খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নেতৃত্বে তিন দেশ সফর শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলটি দেশে ফিরেছে। চাল আমদানির বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁরা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে যায়। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই চাল আমদানি নিয়ে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী বছর বিশ্ববাজারে চালের দাম আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কায় ভারত ছাড়া বিশ্বের চাল রপ্তানিকারক অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিন দেশ সফর করা হয়েছে। ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলটি ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেয়। আর থাইল্যান্ডে চাল রপ্তানিবিষয়ক সরকারি সংস্থা ও চাল ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিয়েতনাম থেকে আমরা ইতিমধ্যে চাল আমদানি শুরু করেছি। আরও আনা যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কম্বোডিয়া ২০ থেকে ৩০ হাজার টন সেদ্ধ চাল রপ্তানি করতে চায়। কিন্তু ওই চাল আমাদের দরকার নেই। থাইল্যান্ড আপাতত সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চাল রপ্তানির ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তবে বেসরকারি খাতে সে দেশ থেকেও চাল আনা যাবে।’কোন দেশ কতটুকু চাল বিক্রি করবেগত কয়েক বছরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি চাল রপ্তানি করবে ভারত। তবে অনাবৃষ্টির কারণে সে দেশে চালের উৎপাদন কমেছে। ফলে ২০২১ সালে তারা ২ কোটি ১৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করলেও এবার করবে ১ কোটি ৭০ লাখ টন। গত সেপ্টেম্বরে তারা চাল রপ্তানির ওপর শুল্ক–বাধাও বাড়িয়ে দিয়েছে।বাংলাদেশ মূলত ভারত থেকে চাল আমদানি করত। এর আগে ২০০৭ সালে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানির চুক্তি করেও তারা বাংলাদেশকে পুরো চাল দেয়নি। এবারও চাল আমদানির আলোচনা শুরুর পরপরই ভারত রপ্তানির ব্যাপারে কঠোর হয়। এ কারণে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়।এ ব্যাপারে সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, কম দামে পেলে বিশ্বের যেকোনো দেশের চাল আমদানি করা উচিত। সরকারি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তখনই কোনো দেশ সফরে যাবে, যখন সেই দেশ থেকে চাল আমদানির নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। সম্পর্ক উন্নয়ন ও আমদানির আলোচনার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই যথেষ্ট।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধফিলিস্তিনি কিশোরীকে মাথায় গুলি করে হত্যা
পরবর্তী নিবন্ধইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জেলেনস্কির ৩ ফর্মুলা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে