বারবার রাতের আঁধারে আমগাছ কেটে চাষিদের সর্বনাশ, ধরা পড়ে না দুর্বৃত্তরা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দুই দশকে অন্তত দেড় হাজার আমগাছ কেটে দিয়ে চাষিদের সর্বনাশ করেছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে একের পর এক এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন আমসমৃদ্ধ বাঘা উপজেলার চাষিরা।সর্বশেষ গত রোববার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের ১৫ জন চাষির প্রায় ৪০০ আমগাছ কেটে ফেলা হয়। এর পাঁচ দিন আগে আরও পাঁচজন আমচাষির ১৩০টি গাছ কাটা হয়। এই দুটি ঘটনায় কোনো দুষ্কৃতকারী ধরা পড়েনি। ভুক্তভোগী চাষিরাও বলতে পারছেন না, কারা তাঁদের এমন সর্বনাশ করছে। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এমনটি করা হতে পারে বলে ধারণা তাঁদের।হাবাসপুর গ্রামের আমচাষি সাধন কুমার রোববার দিবাগত রাতের গাছ কাটার ঘটনায় বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ এসে দেখে গেছে। এত সাংবাদিক এল। একের পর এক খবর হচ্ছে, কিন্তু কোনো আসামি ধরা পড়েনি। পুলিশ বলছে, ‘নাম বলো, নাম বলো’। রাতের অন্ধকারের ঘটনা। তাঁরা কার নাম বলবেন?আমাদের সাত-আটজন আমচাষির ১০০–এর বেশি আমগাছ কাটা হলো। তখনো কিছু হলো না। একজন আসামিও ধরা পড়ল না। গ্রামের সব জমিতেই আমগাছ। গাছ নিয়ে আমরা এখন বড় দুশ্চিন্তায় আছি।’বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে কী হয়েছে, তিনি তা জানেন না। তবে হাবাসপুর গ্রামের আমগাছ কাটার ঘটনাটি ‘সূত্রহীন’। তারা আসামি ধরার কোনো সূত্র পাচ্ছেন না। অনেক মানুষের গাছ কাটা হয়েছে। তাঁরা কেউই কারও নাম বলতে পারছেন না। পুলিশ চেষ্টা করছে।সাধনের ছেলে বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, একটি গাছ কাটার আসামিও ধরা যায়নি। বিচার হয়নি। বাবা মারা যাওয়ার পরে তাঁরা সবার সঙ্গে একটু মানিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ গত দুই বছর আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল। তাঁরা ছাড় দিয়ে আপস করে নিয়েছেন।বিমল চন্দ্র সরকার ছাড়াও গত কয়েক বছরে বলিহার গ্রামে কার্তিক চন্দ্র সরকারের বাগানের ১৩টি আমগাছ, দিলীপ সরকারের দিনাজপুরী লিচুবাগানের ৩৪টি লিচু, ব্রজগোপালের বাগানের আটটি আমগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। কার্তিক চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তার আত্মীয় সুকুমার সরকার বলেন, কারও সঙ্গে প্রকাশ্য শত্রুতা না থাকায় তাঁরা থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। কোনো দুষ্কৃতকারীও চিহ্নিত হয়নি।উপজেলার বলিহার গ্রামের বিমল চন্দ্র সরকারের ২৬ বিঘার ফল বাগান রয়েছে। ২০০০ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ২০০৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে তাঁর বাগানে ৩০ বার হামলা করেছে। ৫০০টি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানের একটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার খড়িসহ (জ্বালানি) ঘরটি পুড়ে যায়। আগুনে একটি কাঁঠালগাছ পুড়ে যায়। ছয়টি বড় আমগাছের অংশ বিশেষ পুড়ে যায়। বিমল চন্দ্র সরকার ২০১৪ সালে মারা যান। তার আগে তিনি বাঘা থানায় ৫০টির বেশি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু কোনো সাক্ষী জোগাড় করতে না পারার কারণে কোনো বিচার পাননি।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধশহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
পরবর্তী নিবন্ধদাম বাড়ল টিসিবির ২ পণ্যের

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে