যে দলের সমর্থকই হন না কেন, লিওনেল মেসির খেলা ফুটবল-ভক্তমাত্রকেই মুগ্ধ করে। কিংবদন্তিতুল্য এই ফুটবলারের বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে। শিরোপা শেষ পর্যন্ত যাঁর হাতেই উঠুক, জাদুকরি কিছু মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য তাঁকে টুপিখোলা অভিবাদন জানানোই যায়। তাই মেসির কাছে খোলা চিঠি আহ্বান করেছিলাম আমরা। এখানে পড়ুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরিনা সুহানের লেখা।পরিচয় কিংবা প্রণয়, আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা প্রথম আলো পত্রিকার পাতা থেকেই শুরু। কখন সেই সময়টা? ২০১১-১২। আমি তখন স্কুলে পড়ি, টিনএজার। প্রায়ই পত্রিকার খেলার পাতা খুলে দেখতাম মেসি নামক অসম্ভব মিষ্টি একটা ছেলের ছবি, পড়তাম তাঁর দুর্দান্ত পায়ের কারুকার্যের ইতিবৃত্ত। অপেক্ষায় থাকতাম, একদিন আপনার খেলা দেখব। ফুটবলের প্রতি আগ্রহের শুরুটাও এভাবেই। আপনাকে ভালো লেগে না গেলে কখনো হয়তো সেভাবে ফুটবল খেলাটা দেখাই হতো না!২০১৪ সালে দেখা হলো প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ। সেবার মেসি নামক জাদুকরের ‘লাইভ পারফরম্যান্স’ দেখা। বেশি কিছু মনে নেই। শুধু মনে আছে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই আপনি গোল করেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে নকআউট পর্ব, কোয়ার্টার, সেমি পার করে চলে গেলেন ফাইনালে। আহা কী আরাধ্য একটা ট্রফি! চারদিকে শোরগোল চলছে, বিশ্বকাপ ট্রফিরই দুর্ভাগ্য, যদি সেটা মেসির ছোঁয়া না পায়। সেবার স্বপ্নপূরণ হয়নি। ফাইনালে পারিনি। যদিও সেই ফাইনালে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন আপনি, আমার রাজপুত্র।জানি তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। ট্রফির দিকে তাকিয়ে আপনার সেই মলিন দৃষ্টি আমি ভুলিনি। আর্জেন্টিনা কাপ জিততে পারেনি এটা যতটা কষ্টের, তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছিল এই ভেবে—মেসির মনে কী ঝড়ই না চলছে!পরপর দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেও আপনাকে খালি হাতে ফিরতে হলো। আপনি চাইতেন দেশের জন্য একটা ট্রফি, আর আমরা চাইতাম আপনার মুখের হাসি। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আরাধ্য মুহূর্তটা ধরা দিল। শেষ বাঁশি বাজার পর আপনি মাঠে বসে কাঁদছিলেন, কী অভূতপূর্ব একটা দৃশ্য! আজ কি সেই একই দৃশ্য আবার দেখতে পাব?



















