সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের হাওরাঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ফুলে মধু আহরণে ভিড় করছে মৌমাছি। চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, বংশীকুন্ডা উত্তর ও চামরদানী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে সরিষার চাষ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার সহজে সার ও বীজ পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করার সুযোগ পেয়েছেন। এ কারণে উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, চলতি বছর উপজেলায় ৪২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সরিষা ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।
উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চান্দালীপাড়া গ্রামের এরন বিলের সরিষাচাষি শাহাবুদ্দিন জানান, গত বছর এক বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করে লাভবান হতে না পারলেও এ বছর দুই বিঘায় সরিষা চাষ করেছি। সরিষার ফুল ভালো আর বড় বড় বীজ দেখা যাচ্ছে। আশা করছি চলতি বছরে বাম্পার ফলন পাবো।
ওই ইউনিয়নের কাকরহাটি গ্রামের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, সরিষা লাভজনক একটি ফসল। সরিষা চাষে আর্থিক খরচ ও শ্রম দুটোই কম লাগে। তা ছাড়া গত বছর সরিষার ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এ বছর আমি চার কেয়ার জমিতে সরিষার চাষ করেছি।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এই অর্থবছরে সরিষার আবাদ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। যার ফলে অনেক চাষি তুলনামূলক ভালো দামে সরিষা বিক্রি করেছেন। এ বছর হাইব্রিড বারি-১৪ ও দেশীয় বারি-৯ সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। চলতি বছরে কার্তিক মাসের শেষ দিকে বৃষ্টির কারণে যারা প্রথম সরিষা বপন করেছিলেন, তাদের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার তারা নতুন করে বীজ বপন করেন। এই বছর রোগ-বালাইয়ের হার কম থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার আশানুরূপ ফলন হবে।




















