এই সরকারের সরে যাওয়া ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই বলে মনে করে বিএনপি। তারা বলছে, মহাবিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। কেবল দুর্নীতিপরায়ণ এই সরকার সরে গেলেই আস্থা তৈরি হবে। তখন আর্থিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে এসে দ্রুত এর সমাধান করা সম্ভব হবে। এই সরকারকে রেখে এটা করা সম্ভব হবে না।আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তারা এত বেশি দুর্নীতিপরায়ণ যে তারা সেন্ট্রাল ব্যাংককেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। তারা পুরো ইকোনমিক সিস্টেম, মনিটরিং সিস্টেম—সবকিছু নষ্ট করে ফেলেছে। ব্যাংকগুলো ভয়াবহভাবে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে প্রায়। ভুল ধারণা, ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে সরকার দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা করছে। একমাত্র পথ হচ্ছে এই সরকারের চলে যাওয়া।মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ তলানিতে নেমে আসা, ডলার–সংকট, টাকার নজিরবিহীন অবমূল্যায়ন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অব্যবস্থাপনা, ভ্রান্তনীতি, লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার, ঋণখেলাপি বৃদ্ধি পাওয়া, ঋণপ্রাপ্তির অপর্যাপ্ততা, আয়বৈষম্য, সুশাসনের অভাব এবং গণতন্ত্র না থাকা—এসব কারণে দেশে অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে।ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যের জাঁতাকলে জনগণের ত্রাহি অবস্থা। অর্থনীতির প্রায় সব কটি সূচকই আরও দুর্বল ও প্রকট হয়ে উঠেছে। চারদিকে শুধু হাহাকার। এককথায় দেশের অর্থনীতি এক মহাসংকটে নিমজ্জিত।মির্জা ফখরুল বলেন, গত আগস্টে সরকারি হিসেবেই মূল্যস্ফীতি দেখানো হয় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমছে দেখানো হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি রয়েছে। জানুয়ারি মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, ডিমের আকাশছোঁয়া, এমনকি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার ওপর। অথচ সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাধারণ মূল্যস্ফীতি দেখাচ্ছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এর সঠিকতা নিয়ে খোদ অর্থনীতিবিদেরাই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।




















