বর্ষবরণে হামলার আসামি জঙ্গি নেতা মুফতি শফিকুর কারাগারে

0

২০ বছর আগে রাজধানীর রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি শফিকুর রহমান গতকাল (১৪ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এতদিন তিনি ছদ্মনামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছিলেন। করতেন বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও ইমামতি।

এর আগে র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করে। এ নিয়ে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানিয়েছে, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় মৃত্যু হয় ১০ জনের। এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলাসহ আরেকটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার শফিকুরসহ ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হত্যা মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মুফতি শফিকুর রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

র‍্যাব আরো জানিয়েছে, ২০০৫ সালে হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন হত্যা মামলারও চার্জশিটভুক্ত আসামি এই গ্রেপ্তার শফিকুর। তার বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় ৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে নরসিংদীতে একটি মাদ্রাসায় অবস্থান করে আত্মগোপনে চলে যান শফিকুর রহমান। সেসময় থেকে শফিকুর আব্দুল করিম ছদ্মনামে স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির কাজ করতেন বলে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলায় দন্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলা দুটিতে একই বছরের ১৬ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়। সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), মাওলানা আকবর হোসাইন, মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক), হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মাওলানা আবু বকর ও আরিফ হাসান সুমন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও মাওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল।

ওই মামলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯ আসামির মধ্যে একজন হলেন শফিকুর।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধ​​​​​​​আসছে ঈদে বিশেষ ট্রেন ১২টি, থাকবে মহিলা কামরা
পরবর্তী নিবন্ধরাজধানীতে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে