লঞ্চভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব মালিকদের

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাসের পর এবার লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছেন মালিকেরা। সে ক্ষেত্রে প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য কিলোমিটারপ্রতি বর্তমান ভাড়া ২ টাকা ৩০ পয়সার জায়গায় ৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং প্রথম ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ভাড়া ২ টাকার জায়গায় ৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।

লঞ্চমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ আজ রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানের কাছে লঞ্চভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হলে বর্তমানে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যের গন্তব্যে লঞ্চভাড়া ২৩০ টাকা হলে সেটি বেড়ে ৪৬০ টাকা হবে।

নৌপথে যাত্রীভাড়া নির্ধারণে আগামীকাল সোমবার লঞ্চমালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন ছয় শতাধিক লঞ্চ চলাচল করছে।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) আবদুস সাত্তার শেখ প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চমালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ভাড়া দ্বিগুণের বেশি করার দাবি জানিয়েছেন। ভাড়া কতটা বাড়বে, তা আগামীকালের বৈঠকে ঠিক হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের কথা বলে গত শুক্রবার সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়। কেরোসিনের দামও লিটারে ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গতকাল বাসভাড়া সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়। আর মহানগরে বাসের ভাড়া বাড়িয়ে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১৫ থেকে আড়াই টাকা করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

একাধিক লঞ্চমালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ এখন সড়কপথে যাতায়াত করছেন। যাত্রী কমে যাওয়ায় লঞ্চ ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। তার ওপর নতুন করে সরকার ডিজেলের দাম একলাফে লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভাড়া বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিআইডব্লিউটিএর কাছে পাঠানো চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ায় খোলাবাজারে মবিলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রফেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিংয়ের মূল্য প্রায় ২০০ গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে লঞ্চ পরিচালনের ব্যয় প্রায় ১০০ ভাগ বেড়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে লঞ্চ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে ২০২০ পর্যন্ত লঞ্চের ভাড়া বাড়েনি। ২০২১ সালে ভাড়া যা বেড়েছে, তা খুবই নগণ্য ছিল। এখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যাও কমেছে। এসব বাস্তবতায় লঞ্চভাড়া বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় লঞ্চমালিকদের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তাঁরা শতভাগ বাড়ানোর যে প্রস্তাব করেছেন, তা হবে না।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছরের ৪ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর লঞ্চভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৬০ পয়সা বাড়ানো হয়। তখন প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৩০ পয়সা এবং প্রথম ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি ভাড়া ২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজপথ দখল করা অত সহজ নয় : তোফায়েল আহমেদ
পরবর্তী নিবন্ধরাজার সঙ্গে এবার চাকাভা, ৯ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হার বাংলাদেশের

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে