ঐহিত্যবাহী ও প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের ৬ ছাত্রকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ৩ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রকাশ্যে ধূমপান, সহপাঠীকে মারধর, গালিগালাজ এবং অশালীন আচরণের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নুরজাহান বেগম এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এক নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও অভিভাবকদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আচরণগত শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাসে অংশ নিতে পারবে না। তবে শুধুমাত্র রুটিন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
উল্লেখ্য, বহুবছর পর স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাস্তি পাওয়া ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন চতুর্থ শ্রেণির, পঞ্চম, সপ্তম ও নবম শ্রেণির একজন করে শিক্ষার্থীকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। নবম ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্র গত ৩ আগস্ট টিফিনের সময় শৌচাগারে ঢুকে ধূমপান করছিল। পঞ্চম শ্রেণির শাস্তি পাওয়া ছাত্রটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খুবই গুরুতর। সে সম্প্রতি আরেক ছাত্রকে ফুঁসলিয়ে শৌচাগারে নিয়ে যাচ্ছিল খারাপ কাজের উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণির তিন ছাত্র সম্প্রতি টিফিনের সময় এক সহপাঠীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হন। এরপর তাদেরকে শাস্তির বিষয়ে জানানো হয়। এসব শিক্ষার্থী তিনমাস স্কুলে চলমান শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। তবে শুধুমাত্র রুটিন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
রাজশাহী সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. নুরজাহান বেগম বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে স্কুলে কোন শিক্ষার্থীকে মারধর করে শাসনের সুযোগ নেই। সব সময় তাদের বুঝিয়ে সংশোধন করা হয়। কিন্তু এই ছয় ছাত্রের অপরাধের মাত্রা অনেক বেশি। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেই হতো। মারধরে অভিযুক্ত তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক আইনের আশ্রয় নিতেন। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। ধূমপান করা দুই ছাত্রের অপরাধও অনেক বড়। আর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রটির অপরাধ খুবই গুরুতর। আমরা তাদেরকে এই শাস্তি দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছি। অভিভাবকরা তাদেরকে কাউন্সেলিং করবেন এবং তারা ঠিক হবে বলে আশা করছি-জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।




















