চট্টগ্রামের চাক্তাই খালে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে গোসল করতে নেমে দুই দুরন্ত কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছে- মোহাম্মদ মামুন (১৮) ও মো. হৃদয় (১৩)।
শনিবার দুপুরে খাতুনগঞ্জ এলাকার চাক্তাই খালে নিখোঁজের চার ঘণ্টা পর তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয় ধারালো লোহার রডে গাঁথা অবস্থায়। দুই কিশোর বাকলিয়া এলাকার মোজাহের কলোনিতে থাকত মা-বাবার সঙ্গে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চাক্তাই খালে জোয়ারের সময় কিংবা খাল পানিতে ভরা থাকলে কলোনির দুরন্ত শিশু-কিশোররা মিলে রাস্তা বা আশপাশের ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে খেলা করে। সাঁতার কাটে। ঠিক একইভাবে মামুন ও হৃদয় শনিবার দুপুরে ‘খেলার ছলে’ একটি ভবন থেকে চাক্তাই খালে লাফ দেয়। খালের পার্শ্ববর্তী সোনা মিয়া ভবনের পাঁচতলা থেকে মামুন ও তিনতলা থেকে অপর কিশোর হৃদয় খালের পানিতে লাফ দেয়। অন্যান্য সময় লাফিয়ে পড়ার পর ভেসে ওঠে সাঁতার কাটলেও এবার তারা আর ভেসে ওঠেনি। খালে দুই কিশোর নিখোঁজের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে এসে নিখোঁজ দুই কিশোরের লাশ আধাঘন্টার ব্যবধানে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজনের লাশ লোহার রডের সঙ্গে গেঁথেছিল। অপরজনের শরীরেও রয়েছে লোহার রডের আঘাত। খালের মাটি খননের কাজে এখানে খনন সমাগ্রী ছিল। জোয়ারের পানির নিচে থাকায় তা দেখা যায়নি। মূলত এ কারণেই দুই কিশোরের প্রাণ গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী জানান।
বাকলিয়া থানার ওসি আবদুর রহিম জানান, মামুন ও হৃদয় দুইজনই বন্ধু। তারা এলাকার মোজাহের কলোনির বাসিন্দা। দুই কিশোরই শ্রমিক। একজন নুডলস কারখানায়, আরেকজন চায়ের দোকানে কাজ করত। তারা দুজনই ব্রিজের পাশে সোনা মিয়া ভবনের পাঁচতলার ছাদে উঠে খালের পানিতে লাফ দেয়। এতে পানির নিচে থাকা লোহার রডে গলা আটকে গিয়ে আর উপরে উঠতে পারেনি। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পানির নিচ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন।




















