খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকা থেকে জিহাদ শেখ ও আলামিন হোসেন নামে দুই ভ্যানচালককে অপহরণের ঘটনায় পুলিশ হত্যা মামলার আসামিসহ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার আদালতে ভিকটিমরা জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আসামিরা হলেন- কুয়েট এলাকার রুবেল হত্যা মামলার আসামি মো. মুন্না হোসেন (২৬), শক্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি উজ্জল (২৭) ও তরিকুল (২০)।
জানা গেছে, গত শুক্রবার তেলিগাতী সরদারপাড়া এলাকার আলী আহম্মেদের ছেলে রুবেল ভ্যানচালক জিহাদ শেখ ও আলামিন হোসেনকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই তাদের তেলিগাতী মধ্যপাড়া ক্লাব মোড়ের জামিরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় আটকে রাখে। পরবর্তীতে অপহরণকারীদের নির্দেশে জিহাদ শেখ তার ছোটভাই জিয়ারুলের মোবাইলে ফোন করে অপহরণের মুক্তিপণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলেন। এদিকে অপহরণকারীরা দুইজনকে বিভিন্ন মহিলাদের সাথে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি তুলে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
এ ঘটনার পর জিয়ারুল অপহরণকারীদের ফোনে জানান, এত রাতে বিকাশে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সরাসরি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এতে অপহরণকারী চক্র রাজি হয়ে শুক্রবার দিনগত রাত ৪টায় কুয়েটের পকেট গেটে আসতে বলেন।
এদিকে অপহরণের পর জিহাদের বাবা বিষয়টি খানজাহান আলী থানা পুলিশকে জানান। কুয়েটের পকেট গেটে মুক্তিপণের টাকা নিতে আসার সঙ্গে সঙ্গে অপহরণকারী তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ তেলিগাতি এলাকা থেকে ভিকটিম দুজনকে উদ্ধার করা হয়।
খানজাহান আলী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন খান জানান, বিষয়টি জানার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে আগেই জানা হয়। অপহরণকারীরা ভিকটিমদের অশ্লীলতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। জিহাদের বাবা আসলাম শেখ বাদী হয়ে চারজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। রুবেলকে আটকের জন্য অভিযান চলছে। শনিবার দুপুরে ভিকটিমরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত আসামিদের জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।




















