নানান ছদ্মবেশে থাকা মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় পেট্রল ঢেলে আগুনে লাগিয়ে স্ত্রী হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আলমকে ২১ বছর পর রাজধানীর বংশাল হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তিনি ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করে টিকাটুলি এলাকায় বসবাস করছিলেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।
র্যাব-৪ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আলম ও ভিকটিম একই গ্রামের বাসিন্দা।
মো. আলমের সঙ্গে ২০০১ সালের জুন মাসে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানাধীন আটিপাড়া গ্রামের মো.মকবুল হোসেনের মেয়ে আম্বিয়া বেগমের (১৮)পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই তার নববিবাহিতা স্ত্রী আম্বিয়াকে মারধর করত। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে।
আম্বিয়ার বাবা দরিদ্র হওয়ায় দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় মাত্র ৩ মাসের মাথায় ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আসামি আলম শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীকে বেধড়ক পিটুনি দিলে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামির সংগ্রহ করে রাখা পেট্রল ভিকটিমের গায়ে ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গুরুতর অগ্নিদগ্ধ আম্বিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিংগাইরের সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই রাতেই ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর দিন ২০০১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে আম্বিয়ার মৃত্যু হয়।
ঘটনার একদিন পর নিহতের বাবা মো. মকবুল হোসেন বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় আসামির বাবা মো. রহিজ উদ্দিন, মা আলেয়া বেগম, আলমের বোন জামাই রবিউল, আলমের চাচাতো নানা আফতাবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর হতে অদ্যবধি আসামি আত্মগোপনে থাকায় আলমকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট প্রদান করেন এবং এজাহারনামীয় বাকি ৪ জন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিট থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।
পরবর্তীতে চার্জশিটের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আম্বিয়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ২০০৩ সালের ৩০ নভেম্বর আলমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলা উচ্চ আদালতে গেলে মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৬ সালে ৬ জুলাই আসামি আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রদান করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, মামলার সাজা থেকে বাঁচতে ঘটনার পর জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তন করে ঢাকায় বসবাস শুরু করে এবং দ্বিতীয় বিয়ে স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে রাজধানীর টিকাটুলি এলাকায় বসবাস করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বংশালের একটি জুতার কারখানা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সিংগাইর থানায় হস্তান্তর করা হবে।




















