বঙ্গোপসাগরে ৯টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি,৩০ হাজার ইলিশ মাছ লুট

বঙ্গোপসাগরে ৯টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। জলদস্যুরা ট্রলারে থাকা অন্তত ৩০ হাজার ইলিশ মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। শুধু ইলিশই নয়, জলদস্যুরা নিয়ে গেছে জেলেদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা মোবাইলসহ সবকিছু। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সন্দ্বীপের কালিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে একাধিক মাঝি-মাল্লা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। লুণ্ঠিত ইলিশ মাছের দাম প্রায় ১ কোটি টাকা।

একাধিক মাঝি ও নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সদরঘাট ও ফিশারিঘাট এলাকা থেকে এসব ট্রলার নিয়ে জেলেরা বঙ্গোপসাগরের গভীরে ইলিশ মাছ আহরণে যান। টানা ৫ দিন মাছ শিকার করে শুক্রবার রাতে তারা ফিরছিলেন। ফেরার পথে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মাঝামাঝি কালিরচর এলাকায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে নয়টি ট্রলার। বিভিন্ন অত্যাধুনিক ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত জলদস্যু বাহিনীর ২৫-৩০ জন সদস্য ট্রলারে উঠে জেলেদের মারধর শুরু করে। অস্ত্রের মুখে ট্রলারের মাছ ও মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এভাবে রাত ৮ থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ৯টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি করে জলদস্যু বাহিনী। প্রতিটি ঘটনা ঘটে নোয়াখালীর হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মাঝামাঝি কালিরচরের ৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে। পরে জলদস্যুরা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে দিয়ে পালিয়ে যায়। ৯টি ট্রলারের মাঝি-মাল্লারা ৫ ঘণ্টা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে ভোরে অন্য ট্রলারের জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন।

মায়ের দোয়া নামে জলদস্যুর কবলে পড়া একটি ট্রলারের দুই জেলে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে হাতিয়া-সন্দ্বীপ থেকে দ্রুতগামী বড় ট্রলারে আসা ২৫-৩০ জনের ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে ধাওয়া করে একের পর এক ট্রলারগুলো ডাকাতি করে মাছ, জাল, তেলসহ সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাত দল আমাদের ট্রলারের ইঞ্জিনগুলো বিকল করে দিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরকার বলেন, এখন ভাদ্র মাস। ইলিশের মৌসুম। এ কারণে জলদস্যুরা পরিকল্পনা করে মাছ ধরে ফেরার পথে ডাকাতি করেছে। জলদস্যুরা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ইলিশ মাছ নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সদরঘাট নৌ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, আট থেকে নয়টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গোসাগরের প্রায় ৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যেসব থানা এলাকায় এসব ট্রলার ডাকাতি হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়ের হবে।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধআমন মৌসুমের শুরুতেই সার সংকট
পরবর্তী নিবন্ধরাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরও যুক্তরাষ্ট্রে রুশ পণ্য রপ্তানি করছে মস্কো

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে