পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ, লাশ উদ্ধার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদী থেকে শফি আলম (৩৩) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী কইন্যারকুম এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

শফি আলম উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট ভেওলা গ্রামের মৃত আবদুস ছোবহানের ছেলে। এর আগে গত শুক্রবার রাতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে জুয়ার আসর থেকে মাতামুহুরী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন শফি। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আজ তাঁর লাশ উদ্ধার হলো।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার ছোট ভেওলার মাতামুহুরী নদীর পাড়ে শফিসহ বিভিন্ন এলাকার ৮ থেকে ১০ জন তাস (জুয়া) খেলছিলেন। এ সময় স্থানীয় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য এনামুল হক ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে পাশের বিএমচর ইউনিয়নের কুতুবউদ্দিন নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। তখন শফিসহ তিনজন পাশের মাতামুহুরী নদীতে ঝাঁপ দেন এবং অন্যরা পালিয়ে যান। নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন তীরে উঠে এলেও নিখোঁজ হন শফি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল শনিবার মাতামুহুরী নদীতে নৌকায় মাইক বেঁধে শফির নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা হয়। আজ সকালে নদীর পুরুইত্যাখালী কইন্যারকুম এলাকায় শফির লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁর স্বজনদের খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে |

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহত শফির চোয়ালের ওপর দিয়ে একটি রশি প্যাঁচানো ছিল। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে হত্যার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত শফির ভাই মোহাম্মদ আরিফ অভিযোগ করে বলেন, ইউপি সদস্য এনামুল হকের নেতৃত্বে তাঁর ভাইকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রচার করা যায়, নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচনে ইউপি সদস্য এনামুল হকের পক্ষে নির্বাচন না করায় তিনি তাঁর ভাইকে হত্যা করেছেন। তাঁরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে এনামুল হক বলেন, মাতামুহুরী নদীর পাশে একটি বাড়িতে প্রতি রাতে জুয়ার আসর বসে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এএসআই নাছিরকে সঙ্গে নিয়ে ওই জুয়ার আসরে অভিযান চালানো হয়। তিনি কেন পুলিশ নিয়ে সেখানে গেলেন এবং তখন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেন শফি মারা গেলেন, সে ক্ষোভ থেকে তাঁকে হত্যায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধরাশিয়া ইউক্রেনে কীভাবে সৈন্য মোতায়েন করবে তা স্পষ্ট নয়
পরবর্তী নিবন্ধহত্যা করা হয়েছে সানজানাকে , আত্মহত্যা করেননি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে