চালককে হত্যা ভ্যানে নিতে রাজি না হওয়ায়

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় চাঞ্চল্যকর অটোভ্যানচালক হারুন অর রশিদ হারুন (৪০) হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। নেশা অবস্থায় চারজনকে ভ্যানে নিয়ে ঘুরতে রাজি না হওয়ায় তাকে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। 

গ্রেফতার দু’জনের মধ্যে মুক্তার হোসেন (৪০) শনিবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। 

অপরজন মো. শাকিলকে (২৫) সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দু’দিনের মঞ্জুর করেন। দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য দেন।

পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানচালক নিহত হারুন অর রশিদ হারুন দুপচাঁচিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর বড়বাড়িয়া গ্রামের মৃত মঈন ফকিরের ছেলে। তিনি গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের ঘাটমাগুড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ২৮ অক্টোবর রোববার বিকালে তিনি ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে উপজেলার কুশ্বহর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে দুপচাঁচিয়া-আক্কেলপুর সড়কের পাশে মাঠেরপুকুর এলাকায় তার অটোভ্যান পাওয়া গেলেও চারটি ব্যাটারি ছিল না। স্ত্রী আজেদা বিবি থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

শনিবার বিকালে দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হারুন হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়, উপজেলার আশুঞ্জা গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে থানা এলাকায় নিহতদের মরদেহ ভ্যানে বহনকারী মুক্তার হোসেন (৪০) ও ছোট জয়পুরপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমানের পালিত ছেলে ট্রাকের হেলপার মো. শাকিলকে (২৫)। জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তার হোসেন হত্যার দায় স্বীকার ও এর কারণ প্রকাশ করে। শাকিল স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

মুক্তার হোসেন জানায়, তারা চারজন মাদকসেবনের পর হারুনের ভ্যানে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। মাঝে মাঝে হারুন তাদের ভ্যানে তুলতে অস্বীকৃতি জানালে সবাই তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তারা হারুনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে তারা তিনজন গত ২৮ আগস্ট রাত ১০টার দিকে সিও অফিস মোড়ে ২০০ টাকায় ভ্যান ভাড়া নেয়। আক্কেলপুর সড়কে যাওয়ার পথে ডিমশহর রাস্তার মোড়ে আরো একজন ভ্যানে ভ্যানে উঠে। তারা চারজন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে। শেষে উপজেলার কুশ্বহর গ্রামের পাকা রাস্তার পাশে ফাঁকা স্থানে পৌঁছে। তখন মুক্তার, শাকিল ও অপর দু’জন নেশাদ্রব্য সেবন করে মাতলামি করতে থাকে। চালক হারুন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ভ্যানে তুলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন একজন চাকুর ভয় দেখিয়ে মাথা ধরে হারুনকে ভ্যান থেকে নামায়। এরপর একজন চাকু দিয়ে হারুনকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পায়ের রগ কেটে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ভাটাহার মাঠেরপুকুর এলাকায় বাগানে ভ্যান অচল হয়ে যায়। তখন তারা সেখানে ভ্যান রেখে চারটি ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়।

ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ভ্যানে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সৃষ্ট ক্ষোভে তারা হারুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। সেদিন তাদের ব্যাটারি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য ছিলনা। আত্মগোপনের পর খরচ বহনের জন্য এ কাজ করে থাকতে পারে। শনিবার বিকালে মুক্তার হোসেন ও শাকিলকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিনিয়া জাহানের আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে মুক্তার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। 

শাকিল স্বীকারোক্তি দিতে রাজি না হলে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তার দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মুক্তারকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় হত্যারহস্য উদঘাটন হওয়ায় নিহতের স্বজনদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ওসি আরও জানান, পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধবিদেশি আক্রমণ ঠেকাতে ৫১টি শহরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ইরান
পরবর্তী নিবন্ধব্রিটিশরা ‘পয়সা গোনে এবং ইউক্রেনীয়রা ‘গোনে লাশ’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে