হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা গ্রামে শত বছরের একটি পুরনো কবরস্থান দখলের পর বিক্রি করে দিয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের হাতুন্ডা এলাকায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে শত বছরের পুরনো কবরস্থান রয়েছে। এ ঘটনায় হাতুন্ডা গ্রামের মৃত হাছন আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মারুফ চৌধুরী জানান, আমার জানামতে এটি শতবর্ষী কবরস্থান। জবর-দখলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলার ঘটনায় চুনারঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র পাল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরস্থানটিতে হাতুন্ডা গ্রামের মীর বাড়ির আকবর আলী মীরের বংশধররা শতাধিক বছর থেকে সেখানে দাফন-কাফন করে আসছেন। কয়েক বছর আগে আকবর আলী মীরের পুত্র ছুরুক আলী মীর জীবত থাকা অবস্থায় কবরস্থানটি নিয়ে গ্রামে সালিশ হয়। সেই সালিশে ছুরুক আলী মীর বলেন, এ কবরস্থানটি শত বছরের পুরনো, আমাদের সবার দাফন কাফনের জন্য।
এলাকাবাসী জানান, কাছন মীর ও ছুরুক আলী মীরের মৃত্যুবরণের পর তার ছেলেরা শত বছরের কবরস্থানটি দখল করে রাখে। কাঁচন মীরের ছেলেরা কিছু জায়গা বিক্রি করে দেয়। বিক্রি করার পর ক্রেতা আক্তার মীরের মেয়েরা ওই জায়গায় ঘর তৈরি করার সময় বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। তখন এলাকাবাসীসহ আকবর আলী মীরের পুত্র মৃত হাসন আলী মীরের পুত্রদের সাথে আক্তার মীরের মেয়েদের তর্ক-বিতর্ক হয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে জেনে আসছি এটা কবরস্থান। সবাই এখানে দাফন কাজ সম্পাদন করে। মীর বংশের মুরব্বি ছুরুক আলী মীরের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা এই কবরস্থান দখল করে রাখে এবং কাঁচন মীরের ছেলেরা বিক্রি করে দেয়, যা খুবই ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক বিষয়।
সৌদিআরব প্রবাসী মীর মকছুদ আলী বলেন, আমার দুই চাচার ছেলেরা কবরস্থানটি ভাগ-বণ্টন ও দখল করে অন্যদের কাছে বিক্রি করেন। আমি এ ন্যক্কারজনক কাজের নিন্দা জানাই। এছাড়াও ২৭ শতক কবরস্থান আমরা ফিরে পেতে চাই। তিনি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।




















