বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, ৪শ জনকে আসামি 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা  নুরুল ইসলাম মনিসহ ৪শ জনকে আসামি করে পাথরঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সদ্য যোগদানকৃত পুলিশ সুপার মো. আবদুল ছালাম।

সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর বরগুনা পাথরঘাটায় তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার কথা ছিল দলটির। অন্যদিকে একই দিনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগ। যে কোনো সময় বিএনপি-আওয়ামী লীগে সংঘর্ষ ঘটতে পারে শঙ্কা করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

ওই সমাবেশে যোগ দিতে গত রোববার ৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নির্বাচনী এলাকায় আসেন বিএনপি নেতা ও বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। পাথরঘাটার রায়হানপুর এলাকায় আসলে গাড়িবহর ও তার নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায়  প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেল ভাংচুরসহ দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ওই রাত ১০টায় বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পাথরঘাটায় বিএনপির দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। 

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা জানান, নুরুল ইসলাম মনি বরগুনা-২ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। সোমবার দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি নিজের জন্মস্থানে আসতে গিয়ে হামলার শিকার হন। পাথরঘাটায় ১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের মদদে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ বিভিন্ন সময় হামলা ও মামলা করে আসছে। আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ মদদে এই অরাজকতার হয়। 

এ ঘটনায় মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা পাথরঘাটার ৬নং কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু এবং রায়হানপুর ইউপির চেয়ারম্যান মইনুল ইসলামকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এদের নেতৃত্বেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

এ হামলায় বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম মনি ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম জামাল, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক, বিএনপি নেতা সেলিম পহলান, আবুল হোসেনসহ মোট ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন পল্টু।

এতে ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে বাকিদের অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফায়জুল মালেক সজিব, পাথরঘাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম শরীফ, রায়হানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন, ছাত্রদলকর্মী হাসিব ও শাওনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

এ সংঘর্ষের ঘটনায় পাথরঘাটা উপজেলায় বর্তমানে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক জানান, কেন্দ্র ঘোষিত তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার কথা ছিল তাদের। সমাবেশে সাবেক এমপি ও সাবেক বরগুনা জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম মনি অংশ নিতে রোববার ঢাকা থেকে তার জন্মভূমি পাথরঘাটায় এসেছিলেন। উপজেলার রায়হানপুর এলাকায় আসলে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতারা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাবির হোসেন বলেন, সারা দেশে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে সোমবার উপজেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছিল। রোববার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতারা উপজেলার রায়হানপুর এলাকায় নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিতে গেলে বিএনপি ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমান জানান, পাথরঘাটায় হামলা-সংঘর্ষের  ঘটনায় ৯৯ জনকে এজাহারভুক্ত ও আরও ৩শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

spot_img
পূর্ববর্তী নিবন্ধগাজী মাজহারুল আনোয়ার আজীবন বেঁচে থাকবেন তাঁর কীর্তির মাঝে
পরবর্তী নিবন্ধআত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৪ জনকে আসামি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে