খুলনা নগরীর ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শেখ রিয়াজ শাহেদ পারভেজকে (৪০) লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।
এসময় সঙ্গে থাকা তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম (৩২) আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে দৌলতপুর থানাধীন বিএল কলেজের ২নং গেটে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। আহতরা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, দৌলতপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শেষে বিএল কলেজের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে করে খালিশপুরে তার বাড়িতে যাচ্ছিলেন রিয়াজ।
রাত ৯টার দিকে কলেজের ২নং গেটে স্পিড ব্রেকার পার হওয়ার পরপরই পেছন থেকে একটি সাদা প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত রিয়াজের মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এসময় রিয়াজের ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে নিকটস্থ রেললাইনের দিকে চলে যান।
দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল চালক ও রিয়াজের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের পিঠে একাধিক গুলি করে। এসময় গুলির শব্দে এলাকাবাসী চলে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
আহত অবস্থায় এলাকাবাসীরা রিয়াজ ও রফিককে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট খালিশপুর থানা বিএনপির সভা ছিল।এসময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এরপর থেকেই এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে রিয়াজের ওপর হামলার ঘটনার সাথে এর কোন সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিত নন বিএনপি নেতারা।
তবে রিয়াজ শাহেদের ওপর দুর্বৃত্তদের গুলি করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন খুলনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই ঘটনার অনুরূপ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক আমীর এজাজ খান, মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ সকল নেতৃবৃন্দ।
আহত রিয়াজ শাহেদ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চলাকালীন সময়ে তার আত্মীয়দেরকে জানান, তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। কোন রকমে তিনি জীবন বাঁচিয়ে পালিয়েছেন। কারা গুলি করেছে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করতে পারেননি তিনি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা গুলির ঘটনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চলে যাই। সেখান থেকে ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। একটি নম্বরবিহীন সাদা প্রাইভেটকারে থাকা দুর্বৃত্তরা হামলা করেছেন।
উল্লেখ্য, রিয়াজ শাহেদ বিএল কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন। এরপর তিনি মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সর্বশেষ সম্প্রতি তাকে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়। পাশাপাশি তিনি খুলনা সিটি করপোরেশন এবং শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। দৌলতপুর লঞ্চঘাটে তার ইট, বালি ব্যবসা রয়েছে।




















